ধর্মপাশা-জয়শ্রীতে ব্রীজ আছে সড়ক নেই

৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ৪ কিলোমিটারই অকেজো

মোঃ ইমাম হোসেন মোঃ ইমাম হোসেন

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০ | আপডেট: ৬:০৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের ৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৪ কিলোমিটারই পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ায় যান চলাচল তো দূরের কথা, মানুষ হেঁটেও যেতে পারে না। সড়ক ও সেতু দুটিই আছে, তবুও বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা। সড়কটি ভেঙেচুরে যাওয়ায় হেমন্তে এর কিছু অংশ ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে সেতুসংলগ্ন বিকল্প জায়গা দিয়ে হেঁটে অথবা মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে যাতায়াত করতে হয় এলাকাবাসীকে। কখনও কখনও সেতুতে উঠতে ব্যবহার করা হয় বাঁশের তৈরি বিশেষ মই। এমন অবস্থা ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৪টি সেতুর কোনোটিই কাজে আসছে না। প্রতিটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি সরে গেছে। ফলে জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের লক্ষাধিক বাসিন্দাসহ জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জগামী যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রভমেন্ট প্রজেক্ট (আরটিআইপি) প্রকল্পের আওতায় ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। বার বার ঠিকাদার পাল্টেও শেষ হয়নি সংস্কার কাজ। অথচ খরচ হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকা। এ নিয়ে মামলাও চলছে ধর্মপাশা থানায়।

সড়কটি সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মপাশা থেকে জয়শ্রীর দূরত্ব ৭ কিলোমিটার হলেও কান্দাপাড়া থেকে জয়শ্রী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ করলেই এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা একটু সহজ হত।

স্থানীয় শিক্ষক মাজহার সিদ্দিকী বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক এভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া দুঃখজনক। বর্ষায় নৌকায় আর শুকনো মৌসুমে ভাঙা সড়কে মোটরসাইকেলে যোগাযোগ করতে অনেক কষ্ট হয়। শুকনো মৌসুমে রোগী নিয়ে হাসপাতাল যেতে চাইলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, এ সড়কটি জয়শ্রীবাসীর দুঃখের একমাত্র কারণ। এর কারণে জয়শ্রী বাসীসহ আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষজনকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আপাতত সড়কটি সংস্কার না হলেও এ সড়কের ওপর ফ্লাইওভার নির্মিত হবে বলে আশার বাণী শোনালেন।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভার নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি সেতু যাতে মানুষজন ব্যবহার করতে পারে সেজন্য সেতুগুলোর উভয়পাশে ৫০ মিটার করে সংস্কার কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে।