‘ধর্মীয় নির্যাতনের প্রমাণ দিলেই নাগরিকত্ব’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৫:১৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮

ভারতে ‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল- ২০১৬’ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেছেন, “ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুদের এদেশে থাকা অবৈধ নয়। কিন্তু তারা এখনো পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিক হননি। তাদেরকে অবশ্যই ‘ধর্মীয় নির্যাতন’-এর বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে। এটা প্রমাণ করলেই তাদের থাকাটা বৈধ হবে।”

আজ (শনিবার) অসম থেকে প্রকাশিত এক বাংলা দৈনিকে কিরেণ রিজিজুর ওই মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বেঙ্গলি রিফিউজিস’-এর সর্বভারতীয় সভাপতি সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৬ সালে একটা বিল এনেছে। তাতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে যেসব হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি, শিখ যারা ভারতে বেআইনিভাবে এসেছেন তাদের ভারতে থাকতে দেয়া হবে। কিন্তু বেনাগরিক হিসেবে তারা থাকতে পারবেন। বিষয়টি ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বিলটি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, বর্তমানে যে আইন কার্যকরী আছে তাতে এরা সবাই অনুপ্রবেশকারী, সেজন্য এরা নাগরিকত্বের আবেদন করার অধিকারী নন। এই বিল পাস হলে তারা আবেদন করার অধিকারী হবেন। এটিই তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন এবং এটাই হচ্ছে ওই বিলের স্পিরিট। কিন্তু গ্রামেগঞ্জে মোদি (প্রধানমন্ত্রী) নিজে, অমিত শাহ (সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি) থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষরা (পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি) ভুল বুঝিয়ে বলছেন, ওই বিল পাস হলে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধরা নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। কিন্তু এটা মিথ্যে কথা। এটা যে মিথ্যে কথা তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু আরো একবার পরিষ্কার করে বলেছেন বিলটা পাস হলে হিন্দুরা থাকতে পারবেন কিন্তু বেনাগরিক হিসেবে। নাগরিকত্ব তারা পাবেন না। আমরা এই বিষয়টার তীব্র প্রতিবাদ করি। কারণ, আমরা মনে করি, তাড়িয়ে দেয়া এর থেকে ভালো।’

সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা যারা পূর্ববঙ্গ থেকে এসেছি একটা প্রজন্ম আমাদের কষ্ট হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রজন্ম আস্তে আস্তে দাঁড়িয়ে যেতো। কিন্তু বেনাগরিক হিসেবে রেখে দিলে তারা পুরুষানুক্রমে এখানে নাগরিকত্ব পাবে না। কারণ, বিজেপি ২০০৩ সালে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে অধিকার ছিল সেই ক্লজটাও সংশোধন করে বলেছে মা-বাবা যদি ভারতের বৈধ নাগরিক না হয় তাহলে তার সন্তানাদি ভারতের মাটিতে জন্মগ্রহণ করলেও তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না। ভারতের মূল সংবিধানের সঙ্গে বিজেপি’র তৈরি করা আইন পরস্পরবিরোধী বিষয়। সেটাকে তারা ২০১৬ সালের আনা নাগরিকত্ব বিলে পরিবর্তন করেনি। সেজন্য ওই বিল পাস হলেও কেউ নাগরিকত্ব পাবে না। কারণ, এর প্রথম শর্ত হল, তাকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসতে হবে, সেটা দেশান্তরিত অধিকাংশ হিন্দু উদ্বাস্তুরা প্রমাণ করতে পারবেন। কিছু না কিছু নথি তারা দেখাতে পারবেন। অন্য যে দুটো শর্ত আছে তার একটা কিরেণ রিজিজু গতকাল বলেছেন, ‘ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে’ যদি কোনো হিন্দু এসে থাকেন, বা অত্যাচারিত হওয়ার ভয়ে এসে থাকেন, তাহলে তিনি পাবেন। কিরেণ রিজিজু যেটা বলছেন তা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু এটা প্রমাণ করা যায় না, এজন্য তারা নাগরিকত্বও পাবে না। আরো একটা শর্ত যা আছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এই তিন দেশের যেকোনো দেশ থেকে এলে তারা ওই সুযোগ পাবে। কিন্তু ধরা যাক বাঙালীরা ৩০/৪০/৫০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তারা বাংলাদেশের কী প্রমাণপত্র দেবেন? ওই প্রমাণপত্র তারা দিতে পারবেন না। অথবা কেউ যদি কিছু একটা প্রমাণপত্র দেয়ও তাহলেও কর্মকর্তারা হয়তো বলবেন তুমি ওখানে সন্ত্রাসী ছিলে, কি চোর-ডাকাত ছিলে সেটাতো আমাদের প্রমাণ করতে হবে। ফলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মারফত তদন্ত করা হবে। এভাবে কোনোদিন ওই উত্তর আসবে না ফলে সে নাগরিকত্ব পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘সেজন্য ২০১৬ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পরিবর্তন করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে মা-বাবার যে শর্ত তা তারা তুলে দিক। কিন্তু বিজেপি তা দিচ্ছে না। আমরা বলছি ২০১৪ সালের আগে আসলে যদি বেনাগরিক হিসেবে থাকতে দিতে যদি তুমি রাজি থাকো, তার থেকে বরং তুমি বলে দাও ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিবর্ষ, তার আগে আসলে সে এখানকার নাগরিক। তাহলে বোঝা যেত বিজেপি আসলে হিন্দুদের প্রতি দরদী। কিন্তু তার কোনোটাই ওরা করছে না। আসলে ওদের হিন্দুদের প্রতিও কোনো দরদ নেই। এরা (বিজেপি) ওদেরকে (উদ্বাস্তুদের) লেজে খেলাতে চায়। তাদের (উদ্বাস্তুদের) বিভ্রান্ত করে তাদের ভোট পেতে চায়। আমরা ওই বিষয়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’