ধর্ষণের দায়ে ‘স্বামী’ উপাধি হারাচ্ছেন বিজেপির সাবেক মন্ত্রী

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৪৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

নাহ! আর বোধহয় সাধুপুরুষ থাকতে পারবেন না স্বামী চিন্ময়ানন্দ। নিজ কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আগেই গ্রেফতার হয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দ। এবার নিজ সম্প্রদায়েই একঘরে হতে চলেছেন এই নেতা। একইসাথে তার ‘সাধু’ বা ‘স্বামী’ উপাধি কেড়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ (এবিএপি)।

একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ‘সাধু’ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক এবিএপির সভাপতি মহন্ত নরেন্দ্র গিরি রবিবার জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই চিন্ময়ানন্দকে সম্প্রদায় থেকে বহিষ্কার করা হবে। আগামী শনিবার এবিএপি একটি বৈঠকে স্বামী চিন্ময়ানন্দকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে পরিষদের মহন্ত বলেন, ‘১০ অক্টোবর হরিদ্বারে অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেখানকার সাধারণ সভা এ সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেবে।’ এর আগে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের আইন কলেজের এক ছাত্রী অভিযোগ আনেন, বিজেপি নেতা তথা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দ গত এক বছর ধরে তাকে ধর্ষণ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন। উপরন্তু তার আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করে বিভিন্ন সময় তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন এই নেতা।

চিন্ময়ানন্দ পরিচালিত কলেজেই পড়ুয়া ঐ ছাত্রী আরও দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে। ২৩ বছরের ওই ছাত্রী তদন্তকারীদের কাছে ৪৩টি ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ পেশ করেন।

গত শুক্রবার ঐ তরুণীকে যৌন নিপীড়ন ও ভয় দেখানোর অভিযোগে চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী দল। তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায় আদালত। অবশ্য এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়নি।

তবে চিন্ময়ানন্দ তার কুকীর্তির কথা স্বীকার করেছেন দাবি করে মহন্ত গিরি বলেন, ‘সাধু সম্প্রদায়ের পক্ষে এরচেয়ে বেশি লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চিন্ময়ানন্দকে একঘরে হয়ে থাকতে হবে বলে জানান এবিএপির মহন্ত।