ধর্ষণের পর রক্তক্ষরণ, মাদরাসা সুপার বললেন, ‘খারাপ বাতাস লেগেছে’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

মাদরাসা সুপার মাওলানা ইলিয়াছ জমাদ্দার (৪৮) কোরআন শিক্ষা শেষে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনা কাউকে বললে মেরে ফেলা হবে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে ছেড়ে দেন।

ধর্ষিতা ছাত্রীর বাবা বলেন, সোমবার সকালে আমার মেয়েকে নিজ কক্ষে ডেকে ধর্ষণ করেন মাদরাসা সুপার। পরে ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর হুজুর একদিন বাড়িতে এসে বলেন, মনে হয় বাতাস লেগেছে। পানি পড়ে দিয়ে গেলাম, দুই চারদিনে ঠিক হয়ে যাবে।

ওই ছাত্রীর বাবা আরো বলেন, মেয়ে তার মাকে সব খুলে বলে। আমরা সম্মানের ভয়ে গোপনে চিকিৎসা করাই। তারপরও মেয়ে সুস্থ না হওয়ায় মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ৮ আগস্ট মাদরাসার লাইব্রেরিতে নিয়ে ৫ম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে ইলিয়াস হোসেন। শিক্ষার্থী বিষয়টি মা-বাবাকে না জানানোর জন্য ভয় দেখায়। পরে শিশুটির রক্তক্ষরণ হলে ওই সুপার মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে বলে তার পিতা মাতাকে জানায়।

শিক্ষার্থীকে সুস্থ করতে নিজেই ঝাড়ফুক ও পানি পড়া দেয় ওই সুপার। কিন্তু তাতেও সুস্থ না হওয়ায় সুপারের পরামর্শে মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে শিশুটির পিতা-মাতা। সিঁড়ি থেকে পরে যাওয়া আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ নয়, অন্য কারণ থাকতে পারে বলে চিকিৎসকরা পরিবারকে পরামর্শ দেয়। এর পরেই শিশুটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে, সুপার ওই মেয়ের বাবা-মায়ের হাত-পা ধরে ক্ষমা চান। পরে তিনি গা ঢাকা দেন।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার সরকার বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত সুপার ইলিয়াস হোসেনকে আটক করার জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, ওই মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।