‘ধর্ষণ করিনি, নাতনী সম্পর্কীয় চার শিশুকে বিবস্ত্র করে যৌন শিক্ষা দিয়েছি’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

পেশায় রিকশা ভ্যানের চালক পঞ্চাশোর্ধ জয়নাল আবেদীন। স্ত্রী ঢাকায় গার্মেন্টে কর্মরত। ধুনটের গোপালপুর খাদুলী গ্রামে জয়নালের বসবাস। মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুটি ধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া চার শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে জয়নালের বিরুদ্ধে। পুলিশ হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল স্বীকার করেছেন তার অপকর্ম। ঘটনার শিকার চার শিশুকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন সন্তানের জনক জয়নাল আবেদীন মূলত গ্রামের বাড়িতে একা থাকেন। স্ত্রী ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। রিকশা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা জয়নালের বিরুদ্ধে হঠাৎ করেই অভিযোগ উঠেছে ধারাবাহিকভাবে শিশু ধর্ষণের।

চলতি সপ্তাহে প্রতিবেশী চার শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জয়নালের দাবি, নাতনী সম্পর্কীয় চার শিশুকে যৌন শিক্ষা দিয়েছেন, ধর্ষণ করেননি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার চার শিশু দরিদ্র পরিবারের। তাদের দুরসম্পর্কের আত্মীয় জয়নাল। কাছাকাছি হওয়ায় শিশুদের যাতায়াত ছিল জয়নালের বাড়িত। শুক্রবার দুপুরের দিকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া দুই শিশু জয়নালের বাড়িতে যায় জলপাই কুড়াতে।

এ সময় জয়নাল তাদের জলপাই খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ঘরের ভেতর নিয়ে যান। এরপর পর্যায়ক্রমে ২ শিশুকে ধর্ষণ করেন। এরপর রবিবার দুপুরের দিকে জয়নালের বাড়িতে যায় প্রথম শ্রেণিতে পড়া দুই শিশু। তাদেরকেও জয়নাল কৌশলে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

শিশুদের মাধ্যমে বাবা ও মা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে যান। বিচার প্রার্থী অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে চেয়ারম্যান কৌশলে মথুরাপুর বাজার এলাকা থেকে জয়নাল আবেদীনকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ধর্ষণের শিকার দুই শিশুর বাবা বাদী হয়ে জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল আবেদীন দাবি করেছেন, চার শিশু যৌন মিলনের কৌশল শিখতে চেয়েছিল। তাদের বিবস্ত্র করে যৌন মিলনের প্রশিক্ষণ দেন তিনি। এ সময় তারা সামান্য ব্যাথা পেয়েছে। জোরপূর্বক তাদের ধর্ষণ করা হয়নি।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অংকিতা রব চৈতি জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে চার শিশুর যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। চার শিশুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জয়নালের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। চার শিশুকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’