ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতাকে গ্রেফতারের ৪ ঘণ্টা পর  ছেড়ে দিলেন ওসি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫২:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ধর্ষণ মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আল হেলালকে গ্রেফতারের ৪ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। আল হেলাল উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের পিরহাটি গ্রামের মৃত আবু বক্কার সিদ্দিকির ছেলে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৭ সালের ৪ জুন সকাল ১০টার দিকে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দড়িমকুন্দ গ্রামে শ্রমিক দম্পতির বাড়িতে যান আল হেলাল। ওই দিন শ্রমিক দম্পতি জীবিকার তাগিদে সকাল থেকেই বাড়ি ছেড়ে শেরপুর শহর এলাকায় ছিলেন।

এ সুযোগে শ্রমিক দম্পতির যুবতী মেয়েকে ঘরের ভেতর একা পেয়ে ধর্ষণ করেন আল হেলাল। এসময় মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় শেরপুর থানায় দায়ের করা মেয়েটির অভিযোগ আমলে নেয়নি তৎকালীন ওসি খান মো. এরফান। ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজনের সহযোগিতায় আল হেলাল ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে সটকে পড়েন।

এ ঘটনায় মেয়েটি বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ৭ জুন বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আল হেলালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১০৯)। ওই মামলায় আল হেলালের বিরুদ্ধে আদালত থেকে ১৭ সালের ২৫ জুলাই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

এদিকে শেরপুর থানা পুলিশের ওসি খান মো. এরফান বদলি হয়ে প্রায় ৬ মাস আগে ধুনট থানায় যোগদান করেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধুনট থানা পুলিশ মথুরাপুর বাজার এলাকা থেকে আল হেলালকে গ্রেফতার করে। পরে রাত ১০টার দিকে তাকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেন ওসি খান মো. এরফান।

এ বিষয়ে আল হেলাল বলেন, বাদীর সঙ্গে মামলাটি মিমাংসা করে আদালতে আপোষনামা জমা দেয়া হয়েছে। তারপরও দীর্ঘদিন পর কী কারণে আমার নামে আদালত থেকে পরোয়ানা জারি হয়েছে তা বলতে পারছি না। তবে ওসি আপোস মিমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন।

ধুনট থানা পুলিশের ওসি খান মো. এরফান বলেন, আসামির ঠিকানা ভুল ছিল। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। থানার পুলিশ সদস্যরা তাকে ভুল করে গ্রেফতার করেছিল।