ধুতি-পাঞ্জাবি পরে নোবেল নিলেন অভিজিৎ ব্যানার্জি

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩৬:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

পশ্চিমা পোশাক স্যুট-টাই পরে নয় বরং আপাদমস্তক স্বদেশি পোশাকে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন ২০১৯ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ফরাসী অর্থনীতিবিদ এসথার ডুফলো ও তাঁর স্বামী ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) স্টকহোমে অনুষ্ঠিত আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্লের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁরা। এছাড়াও এ বছর এই দম্পতির সাথে একত্রে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমারও।

গতকাল স্টকহোমের কনসার্ট হলে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেখা যায় ড. ব্যানার্জিকে একটি খাকি রঙয়ের পাঞ্জাবির ওপর কালো রঙয়ের ভেস্টে। এর সঙ্গে তিনি সোনালী পাড়ের সাদা ধুতি পরে যান, যা তার বাঙালি শেকড়ের পরিচয় দিচ্ছিল।

তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তার স্ত্রী ফরাসী-আমেরিকান ড. ডাফলোও এসেছিলেন বাঙালি বেশভূষায়। তিনি নীল শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজ পরে আসেন। তার সাজকে সম্পূর্ণ করতে বাঙালি কায়াদায় কপালে একটি লাল টিপ ও সোনার গহনাও পরেন তিনি।

এই দম্পতির সহকর্মী মাইকেল ক্রেমারও এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একটি কালো স্যুট পরে।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডাফলো এবং মাইকেল ক্রেমার ‘বিশ্ব দারিদ্র্য দূরীকরণে পরীক্ষামূলক পদ্ধতি’ বিষয় নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার জন্য নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন। অক্টোবর মাসে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করার পর গতকাল মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) তাদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া অভিজিত ব্যানার্জি ১৯৮৩ সালে নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে এমএ সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৮৮ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পিএইচডি করতে শুরু করেন।

ড. ব্যানার্জি এবং ড. ডাফলো (৪৬) দুজনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক।

অর্থনীতিতে ৫০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন এস্থার ডাফলো। এর আগে ২০০৯ সালে এলিনোর অস্ট্রোম প্রথম নারী হিসেবে পান এ পুরস্কার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাঞ্জাবী-পায়জামা পরেই ২০০৬ সালে নোবেল পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।