ধুনটে পরকীয়া ফাঁস হওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার ‘আত্মহত্যা’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৩২:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯

বগুড়ার ধুনট থানার এক নারী সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পরিবার বলছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে ইদুর মারার বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ধুনট থানা ভবনের পাশে ভাড়া বাসায় সে ইঁদুর মারার ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পুলিশ জানিয়েছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নান্নু মিয়ার মেয়ে রোজিনা আক্তার ২০০৭ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। এরপর ২০০৮ সালে একই এলাকার আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে তারা বিয়ে হয়। রোজিনার স্বামী হাসান আলী সিংড়া উপজেলার দমদমা কারিগরি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। রোজিনা খাতুন এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ধুনট থানায় যোগদান করেন।

এদিকে মেয়ের আত্মহত্যার জন্য নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ কনস্টেবল রফিককে দায়ী করেন রোজিনার বাবা নান্নু মিয়া।

তিনি জানান, এক বছর আগে রোজিনা বগুড়ার ধুনট থানায় যোগদান করেন। এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে তিনি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্বামী হাসান আলী চাকরির সুবাদে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকায় রোজিনা তার মা ও দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতেন।

নান্নু মিয়া আরও জানান, কয়েকদিন আগে রোজিনা কারো সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার পর বাসায় কান্নাকাটি করে। তখন তার মা কৌশলে ওই নম্বরটি সংগ্রহ করে নান্নু মিয়াকে দেন। পরে তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন কনস্টেবল রফিকের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই রোজিনা কান্নাকাটি করেছেন। তবে পুলিশ কনস্টেবল রফিকের সঙ্গে তার মেয়ের পরকীয়ার সম্পর্ক প্রকাশ হওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করছেন নান্নু মিয়া।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘দাম্পত্য কলহের কারণে নারী পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনাটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুধবার দুপুরের দিকে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা রোজিনার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) গাজিউর রহমান বলেন, ‘আত্মহত্যার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। তবে রোজিনার উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তার আগেই তিনি মারা যান।’