নতুন ওষুধে মশা মরে নাকি দৌড়ে চলে যায়?

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৫:১৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

বছরব্যাপী মশা নিধনে সরকারের স্থায়ী পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা কী, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে মশা নিধনে চলমান অভিযানে কোন ওয়ার্ডে কতজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন, তারা কখন যাচ্ছেন এবং কী কাজ করছেন তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে- এমন বক্তব্যে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘ঈদে মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাড়ি যাওয়ায় মশা কামড়াতে পারেনি। এখন আবার মানুষ ঢাকায় এসেছে, তাই এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমেছে কিনা।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপুকে উদ্দেশ্য করে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত বলেন, সারাদেশে তো আর আপনারা (সিটি কর্পোরেশন) ওষুধ ছিটান না। তাই সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমলে সেটা তো আপনাদের কর্মকাণ্ডের ফল না। ওটা ‘বাই ন্যাচারাল’ই কমছে। কারণ আপনারা তো আর সারা দেশে মশার ওষুধ ছিটাননি।’

আর ঢাকা সিটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমার কথা যদি বলেন তাহলে বলতে হবে, ‘ঈদে মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাডি যাওয়ায় মশা তাদের কামড়াতে পারেনি। তবে এখন আবার মানুষ ঢাকায় এসেছে, তাই এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমেছে কিনা।’

এসময় আদালত আইনজীবীকে বলেন, মশা মারার নতুন ওষুধ এনেছেন? নতুন ওষুধে কি মশা মরে? নাকি আবার দক্ষিণের মশা উড়ে উত্তরে চলে যায়?

এছাড়া হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পরিসংখ্যান জানাতে রাষ্ট্রপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবীকে বলা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৬ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মশা নিধনে বিভিন্ন সচেতনামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল নিয়োগে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন ওষুধ এনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী বলেন, গত ১১ আগস্ট থেকে নতুন একটি ওষুধ ছিটানো শুরু হয়েছে। আজ থেকে আরও একটি ওষুধ ম্যালাথিওন ছিটানো শুরু হবে।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে সারাদেশে ৬ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী কমেছে।

এ কথার প্রেক্ষিতে আদালত বলেন, সারাদেশে তো ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। কমছে সেটা পরিবেশের জন্য। ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না সেটা আদালতে খোঁজ নিলেই বলা যাবে। আমরা দেখবো রোগী কমছে কি না।

এ সময় উত্তর সিটির আইনজীবী বলেন, রোগী কমছে। তার মানে ওষুধে কাজ হচ্ছে। আর কর্মীরা কাজে ফাঁকি দিচ্ছে কি না, সেটা তদারকির জন্য তাদেরকে ট্যাকিং সিম দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এতো ব্যাপক হারে তো আগে কখনও হয়নি। এবারই হলো। আদালত বলেন, কেন হলো, এটা তদন্ত করা দরকার।

উত্তর সিটির আইনজীবী বলেন, ৪০ হাজার লিটার ওষুধ এসেছে। আরও ৪০ হাজার লিটার আসবে। ৫৪টি ওয়ার্ডকে ৫টি জোনে ভাগ করে মনিটর করা হচ্ছে।

আদালত বলেন, কলকাতাসহ অন্যান্য শহরে সারাবছর কাজ চলে। আপনারা সারাবছরের জন্য কী পরিকল্পনা নিবেন সেটা জানান।