নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে তুরস্ক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৫৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮
ফাইল ছবি

এই দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে, তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরস্পরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করতে হবে। সেক্ষেত্রে দেশগুলোর ওপর আমেরিকা প্রভাবিত অর্থনীতি ও বাণিজ্য দ্বারা দারুণ আঘাত আসবে। তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এই কাজটা খুবই শ্রমসাধ্য হবে। তবে নতুন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে এভাবেই শুরু করতে হয়।

অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। পুরো পৃথিবীকে তিনি এক কাতারে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন।

আমেরিকার আঘাত তুরস্ক কীভাবে মোকাবেলা করে সেটা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া তুর্কি-ফ্রান্স এবং তুর্কি-জার্মানি সাম্প্রতিক যোগাযোগের দিকেও আমরা দৃষ্টি দিতে পারি।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ব্যস্ত পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত সফর রয়েছে। এসময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করবেন।

১ ও ৩ সেপ্টেম্বর এরদোগান কিরগিস্তান যাবেন। দেশটির রাজধানী বিসকেক এ কিরগিস্তানের প্রেসিডেন্ট শোরানবে জিনবেকভ এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। দেশ দু’টির মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর ইরানী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ইরানে ত্রিদেশীয় সম্মেলনে মিলিত হবেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। সাক্ষাতে সিরিয়ার ইদলিব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে এরদোগানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর আছে আমেরিকায়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি যোগ দিবেন। আমেরিকা ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সম্পর্কে মারাত্নক চিড় ধরায় এরদোগানের এই সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা জাতিসংঘে সমাধান হতে পারে। এরদোগান সেখানে অনেক দেশের নেতাদের সাথে সাক্ষাত করবেন।

এরদোগান আশা করছেন, তুরস্কের ওপর আমেরিকার বাজে পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে জানাতে এবং সেগুলো যে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন তা বিশ্বনেতাদের বুঝাতে পারবেন।

২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমেয়ারের আমন্ত্রণে এরদোগানের বার্লিন সফরের কথা রয়েছে। এরদোগানের জার্মান সফরে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অচলাবস্থা দূরীকরণে দুই দেশের ভুমিকা নিয়ে আলোচনা হবে।

সমস্যা দূর করে তুরস্ক ও জার্মানির মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর উপর নির্ভর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে তুরস্কের সম্পর্ক কেমন হবে। তুরস্ক আদৌ ইউ এর সদস্যপদ পাবে কিনা। সেপ্টেম্বরের সফরগুলো থেকে ভালো কিছু পেতে তুরস্ক গঠনমূলক কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিকো মাস ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তুরস্ক সফরে যাবেন। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভোসগলুর সাথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা করবেন।

তুরস্ক ও জার্মানির বাণিজ্যমন্ত্রীদের ২১ সেপ্টেম্বর জার্মানিতে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী আল-বাইয়ার্ক ফ্রান্স বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে ফলপ্রসু সাক্ষাৎ করেছেন।

এরদোগান চেষ্টা করছেন আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে।

এটা বলা যেতে পারে, নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরিতে তুরস্কের নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা রয়েছে। এক্ষেত্রে তুরস্ক অন্যদেশগুলোর চেয়েও সম্ভাবনাময়।

তুরস্কের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দেশটিকে ইউ সদস্যপদ দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এখন গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন।

ইউ সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্ক-জার্মানি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং সেপ্টেম্বরের সাক্ষাতগুলোর বিষয়ে সেকারণেই আমরা আশাবাদি।

লেখক: ওজান ছেইহান,জার্মান রাজনীতিবীদ।
তুরস্কের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘ডেইলি সাবাহ’য় `Turkey-Germany cooperation is crucial for the EU’ শিরোনামে প্রকাশিত কলাম অবলম্বনে।