নতুন শিক্ষামন্ত্রীর ছবি ভাইরাল হওয়ার নেপথ্যে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৫:২৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার একটা ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি মূলত গত বছরের আগস্ট মাসে চাঁদপুরের নিজ বাড়িতেই তোলা। এই ছবির ওপর ভিত্তি করে গত ৮ জানুয়ারি অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘প্রথম কর্মদিবসে অফিসকক্ষ ঝাড়ু দিলেন শিক্ষামন্ত্রী’ এমন শিরোনামে নিউজ প্রকাশ করা হয়। যা একদম ভুল নিউজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত নভেম্বর মাসেও ডা. দিপু মনি নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে নেতাকর্মীদের নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ান। সেসময়ও একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এলাকাবাসীর দাবি, আসলে ডা. দীপু মনি এমনই মাটির মানুষ। তবে অনেকে এই ছবি নিয়ে ভুল নিউজ করায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সমালোচনাও করেছেন।

আশিক বিন রহিম নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, তারা না বুঝে অথবা সচেতনভাবেই সত্যটাকে আড়াল করেছে। যা সত্যিই দুঃখজনক। আমি বিশ্বাস করি ডা. দীপু মনি এমন একজন মানুষ, যিনি মিথ্যাকে কখনোই প্রশ্রয় দেন না। ছবিটি দিয়ে যারা নিউজ করছেন, তারা হয়তো নিশ্চই না বুঝে ভুল তথ্য পেয়ে করেছেন। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইলো…দয়া করে সঠিক তথ্য না জেনে ভুল নিউজ করবেন না। এতে ওই সংবাদ মাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্মান ক্ষুন্ন হয়।

তিনি আরো লিখেছেন, কোনো বিষয় যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য উপস্থাপন বা পরিবেশন করাই ভালো। নয়তো সাধারণ মানুষ যা কিছু বলে বা লেখে সেটিও সংবাদ বলে ধরা হতো। এই যে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস দিন দিন সরে যাচ্ছে, সে জন্য সংবাদ মাধ্যম বা সাংবাদিকরাই দায়ী। সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টালগুলো আশা করি ভুল সংবাদটা সংশোধন করবেন।

কবি রফিকুজ্জামান রনি তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ডা. দীপু মনির মতো সজ্জন একজন মানুষকে নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গ্রাম বাংলার চিরায়ত, আদর্শ নারীরীতির টানেই কিছুদিন আগে তিনি নিজের বাড়ির একটি কক্ষ ঝাড়ু দিয়েছিলেন। নিজের কাজ নিজে করাটা অনেক তৃপ্তের। সেকারণেই হয়তো ঝাড়ু হাতে মেঝে পরিস্কার করাকে তিনি ছোটভাবে দেখেন নি। নিজেকে সাধারণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াটাও তার বড় একটি গুণ। কিন্তু ওই ছবিটা যারা অফিস ঝাড়ু হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা মূলত তাকে খাটো করতে চেয়েছেন। তাদের এটা করা উচিৎ হয়নি।

তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, সদ্য শপথ নেয়া একজন শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে এমন মিথ্যাচারকারীরা কবে যে সুশিক্ষা পাবেন…। ডা. দীপু মনির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে, থাকবে।

একটি সরকারি স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অপপ্রচার চললে কোথায় যাবে দেশ? একজন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদ নয়, ছবিতে দেখা গেছে আবহমানকাল ধরে পরিবারের দায়িত্ব পালন করা বাঙালি নারীর চিত্র।

প্রসঙ্গত, ডা. দিপু মনি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর বাংলাদেশে প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

দশম জাতীয় সংসদে ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর-হাইমচর) আসন থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তার অনন্য অবদানের জন্য তিনি মাদার তেরেসা আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত হন।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে তিনি পুনরায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।