‘নতুন শীতল যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দিলেন শি জিনপিং

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | আপডেট: ৯:২৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

নতুন স্নায়ু যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে করোনা মহামারি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনিপং।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দাভোস ফোরামের ভার্চুয়াল বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ছোট ছোট দল-উপদল গঠন, নতুন স্নায়ু যুদ্ধ শুরু করা, অন্যকে প্রত্যাখ্যান করা, হুমকি দেওয়া, হামলা চালানো বিশ্বকে শুধুমাত্র বিভাজনের দিকে ঢেলে দিতে পারে।

বৈশ্বিক জোটকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে চীনের প্রভাব রুখতে পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অভ্যন্তররীণ বেশ কয়েকটি সংকট মোকাবিলায় বর্তামানে ব্যস্ত আছেন তিনি। অংশ নিতে পারেননি দোভোস সম্মেলনেও। প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির জলবায়ু বিষয়কদূত জন কেরি।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান’র এক প্রতিবেদনে গতকাল সোমবার বলা হয়েছে, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে চীনের প্রেসিডেন্ট শি তার ভার্চুয়াল বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেছেন।

সংবাদ প্রতিবেদেন মতে, বাইডেন বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উচ্চারণ না করলেও শি এ কথা বোঝাতে চেয়েছেন যে বেইজিং কোনভাবেই ওয়াশিংটনের নির্দেশ মোতাবেক চলবে না।

শি আরও বলেছেন, ‘কোনো বৈশ্বিক সমস্যা কোনো দেশ এককভাবে সমাধান করতে পারে না। সবার প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।’

‘আমাদের উচিত একটি মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলা। একটি বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বৈষম্যমূলক ও অন্তর্মুখী ব্যবস্থা বা নিয়মনীতি বাদ দেওয়া উচিত। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আদানপ্রদানের বাধাগুলো তুলে দেওয়া উচিত,’ যোগ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরও বলেছেন, চীন তার মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে সমালোচনায় ভীত নয়।

তার মতে, ‘প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে অন্যের থেকে আলাদা। কেউ কারো চেয়ে বড় নয়।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘যথাযথ নিয়ম মেনে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। দুর্বলের ওপর ক্ষমতার দাপট দেখানো উচিত না। পেশীশক্তির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত না।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন এখনো তার উত্তরসূরী ট্রাম্পের চীননীতি শিথিল করা কোনো ইঙ্গিত দেননি। অন্যদিকে, তিনি আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ‘আমেরিকার পণ্য’ কিনুন— এমন ক্রয়নীতির নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।