নাক ডাকা রহস্যের ‘নতুন কারণ’ উদ্ঘাটন

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩৫:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২০

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, সন্তানদের বিরক্তি; নাকডাকা নিয়ে কতই না বিপত্তি। অদ্ভুত এই সমস্যাটির নেপথ্যে অনেক কারণ আছে, সেসবের পাশাপাশি ‘নতুন একটি’ বিষয় সামনে এনেছেন পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা।

তারা বলছেন, উচ্চশব্দে নাক ডাকার অন্যতম কারণ চর্বিযুক্ত জিহ্বা।

পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির এই দাবি একেবারে যে নতুন, তা বলার অবশ্য সুযোগ নেই। এতদিন চিকিৎসকেরা বলেছেন, গলার চারপাশে চর্বি জমা হলে নাক ডাকার সমস্যা দেখা দেয়। স্থূল ব্যক্তিদের এমন সমস্যা বেশি হয়। ওজন কমাতে পারলে সমস্যা আবার ঠিক হয়ে যায়।

গবেষকরা বলছেন, ঘুমন্ত অবস্থায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়াও স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভোগা ব্যক্তিরা ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকেন বেশি। তাদের নিঃশ্বাসে উঁচু শব্দ যুক্ত হতে পারে এবং অনেক সময় নিঃশ্বাস না নিতে পারার কারণে ঘুমের মধ্যে তাদের শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে। এসব কারণে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, পরবর্তীতে যা অনেক বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। এসব রোগীদের অনেকেরই তাই পরদিন ঘুম ঘুম ভাব থাকে।

গবেষকরা বলছেন, স্থূলকায় ব্যক্তিদের মধ্যে বাড়তি চর্বিযুক্ত জিহ্বা বেশি পাওয়া যায়। তবে স্লিপ অ্যাপনিয়ার রোগীরা শরীরের ওজন কমালে সেই সঙ্গে জিহ্বা থেকেও চর্বি কমে যায়। আর তাতে স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগটি অনেকটাই কমে আসে।

তবে স্থূলকায় না হলেও অনেকের চর্বিযুক্ত জিহ্বা হতে পারে। তারাও এই সমস্যায় ভোগেন। গবেষকরা খোঁজার চেষ্টা করছেন এমন খাবার যা জিহ্বায় কম চর্বি যোগ করে।

গবেষকরা বলছেন, এটা হতে পারে জন্মগত অথবা পারিপার্শ্বিক কোন কারণে। তবে জিহ্বায় চর্বি যত কম হবে, ঘুমের মধ্যে সমস্যা তৈরি করার সম্ভাবনা তত কম হবে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার অন্যতম একটি বিষয় হল ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসনালীর উপরের দিক আংশিক অথবা পুরোটা আটকে যাওয়া। যাদের ওজন বেশি অথবা ঘাড় ও টনসিল বড় তাদের এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

গবেষকরা ৬৭ জন স্থূলকায় লোকের উপর গবেষণা করে দেখেছেন, তারা শরীরের ওজন ১০ শতাংশ কমানোর পর তাদের স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণগুলো ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ওজন কমার পর তাদের শ্বাসনালীর উপরের অংশের আকার পরীক্ষা করে এই পরিবর্তনের ব্যাপারে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা।

ওজন কমার কারণে চোয়ালের মাংসপেশিও কমে যায়। চোয়ালের মাংসপেশি শ্বাসনালীর দুইপাশের অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই চোয়ালের মাংসপেশি কমে যাওয়াতেও উপকার পাওয়া যায়।

ব্রিটিশ লাঙ ফাউন্ডেশনের ড. নিক হপকিনস বলছেন, ওজন কমানোর মাধ্যমে শ্বাসনালীর উপরের অংশ সরু হয়ে যাওয়া ঠেকানো যায়। কিন্তু জিহ্বার চর্বি কমানোর তেমন সুনিশ্চিত কোন পদ্ধতি নেই। তাই এই সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের জন্য এখনই কোন কার্যকর সমাধান এই গবেষণায় নেই।