‘নাগরিক না করলে আমরা মিয়ানমারে ফিরবো না’

প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৮

মিয়ানমারের সেনা নিধনের মুখে এক বছর আগে রাখাইনে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন রাশিদা বেগম। এখন তিনি সপরিবারে অবস্থান করছেন কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে। তার ৮ মাস বয়সী শিশুপুত্রের জন্ম হয়েছে এখানেই ।

কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে ৭ হাজারের মত রোহিঙ্গা। গত বছরের ২৫ আগস্ট তারিখ থেকে তারা মিয়ানমার থেকে পালালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এখন নিজের ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কিত রাশিদা। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আসলে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। এখানে বাচ্চাদের শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি মিয়ানমারে ফিরে যাবার পর তারা সেখানে লেখাপড়া শিখতে পারবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদশে বা মিয়ানমার- কোথাও কোনো আশা নেই।’

মিয়ানমার বলছে, তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। তারা ফেরত যাওয়াদের জন্য কিছু ট্রানজিট সেন্টারও তৈরি করেছে। কিন্তু এ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। আজ রাখাইনে বার্মিজ সেনাদের রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরুর এক বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে বর্বর অভিযান শুরু করেছিল মিয়ানমার সেনারা।

মিয়ানমারের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের চোখে রোহিঙ্গারা হলো ‘বাঙালি’ এবং তারা বাংলাদেশে থেকে সেখানে গিয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সুচি। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে তার সরকার তৎপর না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এই নেত্রী। এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও কোনো ব্যবস্থা নিতে কার্যতঃ ব্যর্থ হয়েছেন সুচি।

এ কারণেই রাশিদা বেগমের এত দুশ্চিন্তা। এ নিয়ে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব চিন্তিত। আমরা যদি বার্মায় (মিয়ানমার) ফিরে যাই তাহলে ওরা আমাদের হত্যা করতে পারে। মিয়ানমার সরকার যদি আমাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে নেয় তাহলেই আমরা সেখানে যাব, নয়তো না।’

-রয়টার্স।