নামাজরত অবস্থায় মেয়েকে হত্যা করলেন মা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:২৫:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

রংপুরে হত্যার এক দিন পর নিজের মেয়েকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে নিজেই হত্যা করার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলেন মা।

শনিবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় জাহানারা বেগম নামে ওই মহিলার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক আল-মেহেবব।

এর আগে শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে জাহানারা বেগম ও তার স্বামী মেনহাজুল হককে আটক করে পুলিশ। এদিন বিকেলে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বুজরুক হাজিপুর গাছুয়াপাড়ায় নিজের ঘরে খুন হন মাহবুবা আক্তার মেরী নামে তাদের ২৫ বছর বয়সী কন্যা।

পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও গলায় কাটার ধরন এবং পারিপার্শ্বিক কিছু বিষয় থেকে আমাদের কাছে এটি আত্মহত্যা মনে হয়নি। তাই নিহতের বাবা ও মাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেই। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জাহানারা বেগম প্রকৃত ঘটনাটি খুলে বলেন এবং একাই নামাজরত অবস্থায় পেছন দিয়ে জাপটে ধরে গলায় ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, নিহত তরুণী মাহবুবা আক্তার মেরী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ কারণে তার বিয়ে হচ্ছিল না। চিকিৎসায় প্রচুর টাকা ব্যয় হয়। এ কারণে মেরীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্য সবসময় ঝগড়াঝাটি হতো, শুক্রবারও মা ও মেয়ের মধ্য ঝগড়া হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হন জাহানারা এবং আসরের নামাজ পড়ার সময় পেছন দিক থেকে জাপটে ধরে তাকে জবাই করার কথা স্বীকার করেন। শনিবার দুপুরে আদালতেও জাহানারা একই রকম জবানবন্দী দিয়েছেন।

প্রতিবেশিরা জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটলেও পরিবারের লোকজন তাদের কাউকে কিছুই জানায়নি। সন্ধ্যার পর আত্মীয়-স্বজনরা ওই বাড়িতে এসে কান্নাকাটি শুরু করলে তখন প্রতিবেশীরা বুঝতে পারেন ওই বাড়ির কেউ মারা গেছে। সে সময় প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গেলে মৃগীরোগের কারণে মেরী আত্মহত্যা করেছে বলে জানায় পরিবারটি। সেই সময় প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ। এরপর সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সদস্যরাও যায় এবং তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে।

বদরগঞ্জ থানার পরিদর্শক হাবিবুর রহমান রাতেই এটিকে রহস্যজনক দাবি করে বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে, মৃত্যু রহস্য জানতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক পোচের দাগ থাকা, পরিবারের পক্ষ থেকে যথাসময়ে থানায় খবর না দেয়াসহ পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে পারেনি পুলিশ।

যদিও মেয়ের মা জাহানারা বেগম পুলিশকে বলেছিলেন, চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে দেখেন তার মেয়ের গলা দিয়ে রক্ত ছুটছে এবং ছটফট করতে করতে এক পর্যায়ে সে নিস্তেজ হয়ে যায়। ওই সময় জাহানারা দাবি করেছিলেন, মৃগীরোগের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সে নিজেই গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার রাতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মেরীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। শনিবার দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।