নামাজের পর চলছে পশু কোরবানি

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০ | আপডেট: ১১:১৭:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০

ঈদের জামাতের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নামাজ শেষ করেই পশু কোরবানি শুরু করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভ্ন্নি এলাকায় দেখা গেছে, পাড়া মহল্লার গলির মধ্যে, আবার কারও বাড়ির গ্যারেজে চলছে পশু কোরবানি।

গরু জবাই দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জেনরা। কেউ কেউ গরু নিয়ে ইমামের অপেক্ষায় আছেন, কখন তিনি আসবেন। আবার কেউ নিজের গরু নিজেই কোরবানি করছেন আল্লাহর রাস্তায়।

রাজধানীর মগবাজার পূর্ব নয়াটোলার একটি মসজিদের ইমামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদে নামাজ আদায় করে ৮টার দিকে বের হয়েছি। এখন সকাল ৯টা বাজে, এ পর্যন্ত সাতটি পশু কোরবানি করেছি। আরও করব।

কতগুলো করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতগুলো পারা যায়।

করোনার কারণে উৎসাহ কম থাকলেও পশু কোরবানির আশে পাশে শিশুদেরও দেখা গেছে।
সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার নির্দেশনা থাকলেও রাজধানীর অলি-গলিতে কোরবানি করতে দেখা যায়।

মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিমের (আ.) দেখানো পথে ত্যাগের মহিমা ও উৎসর্গের আনন্দ নিয়ে শনিবার এ ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।

‘আল্লাহু আকবার. আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ তাকবির ধ্বনি দিতে দিতে ঈদ জামাতে হাজির হন মুসল্লিরা।

এ বছর ঈদগাহ অথবা খোলা মাঠে নামাজের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে সবাই মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর বিশেষ মোনাজাতে দেশ-জাতি তথা বিশ্ব মুসলিমের জন্য দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে করোনা-বন্যার মতো মহামারি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া হয়।

ঈদুল আজহা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহর আদেশে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এ আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা।

তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ইসলামে বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন, তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর তরফ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব বা কারো কারো মতে সুন্নত।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নত হিসেবে কোরবানির মাংস তিন ভাগের এক ভাগ গরিবের হক ও এক ভাগ আত্মীয়ের হক হিসেবে বণ্টন করা হয়। বাকি এক ভাগ নিজেদের জন্য রাখা হয়। এ নিয়মটি উত্তম হলেও কোরবানি যিনি দিচ্ছেন, তিনি চাইলে পুরো বা আংশিক মাংস নিজেদের জন্য রাখতে পারেন বা বিলিয়েও দিতে পারেন।

জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি করা যায়। তবে মহানবী (সা.) ১০ জিলহজ ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করাকেই উত্তম ঘোষণা করেছেন। সেই মোতাবেক এবার শনিবার ১০ জিলহজই বেশিরভাগ মানুষ পশু কোরবানি করছেন।