নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংঘর্ষে জড়াল ছেলে, প্রাণ গেল বাবার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১ | আপডেট: ৯:০৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালীন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাধারণ সম্পাদকের বাবা। এসময় অন্তত তিনজন আহত হন।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) উপজেলার দক্ষিণ কাশিবাটি জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৬০)। তিনি নলতা ইউনিয়নের পাইকাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলমের বাবা।

আহতরা হলেন-ওই এলাকার নওশের আলী ছেলে শাহজাহান, নাজের আলীর ছেলে রোস্তম মোড়ল ও সাঈদ মোড়ল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের পর স্থানীয় ইমরান আলীর ছেলে আব্দুল কালাম কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে একজনকে ধাক্কা দিলে মারামারির সূত্রপাত ঘটে। এসময় এক গ্রুপের লোকজন আবুল কালামকে মারপিট শুরু করলে কালামের ভাইয়েরা নওশের আলীর ছেলে শাহাজানকে মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। এসময় নাজের আলীর ছেলে রস্তুম মোড়ল, সাঈদ মোড়ল আহত হন।

এলাকাবাসী আরও জানান, সম্প্রতি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মসজিদের কমিটি কমিটি গঠন হয়। এতে ফজলুল রহমান সভাপতি ও মাহাবুবুল আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর গত শুক্রবার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম ১৩ সদস্য নিয়ে আলাদা গ্রুপিং শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে সভাপতি ও সম্পাদকের মাঝে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছিল।

শুক্রবার স্থানীয় রজব আলী সরদার, বাপ্পি সরদার, রউফ সরদার, আনছার সরদার দুই পক্ষের সমস্যা সমাধানের জন্য আসেন। কিন্তু একটি পক্ষ সরদারদের কমিটিতে নেয়া হবে না জানিয়ে গোলযোগের সৃষ্টি করেন। তখনই শুরু হয় মারামারি।

এদিকে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উভয় গ্রুপের মধ্যে যখন মারপিট চলছিল তখন ওই মসজিদে নামাজ পড়ে বাড়িতে ফিরছিলেন সাধারণ সম্পাদকের বাবা নজরুল ইসলাম। পথে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘বাবা আমাদের বিবাদের মধ্যে ছিলেন না। নামাজ পড়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।’

এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মরদেহটি থানায় রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।