নিখোঁজ কয়েদির বিরুদ্ধে মামলা, ১২ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা

তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০ | আপডেট: ৯:৫৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০
প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নিখোজ কয়েদির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিকেলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মোহাম্মদ বাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

অপরদিকে এঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ১২ জন কারারক্ষিীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা নেয়া হয়েছে। ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিখোঁজ কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর আদাব এলাকার তেথের আলী গাইনের ছেলে। আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে কাশিমপুর কারাগারে বন্দী ছিলেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার জাহানারা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লকআপের সময় থেকে কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিককে কারাগারে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কারাগারের ভেতর খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওই কয়েদি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান জেল সুপার।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায়ও তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। তখন তিনি সেল এলাকায় সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। পরদিন তাকে একটি ট্যাংকির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

জেল সুপার আরো জানান, কয়েদির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারে দায়িত্ব পালনের অবহেলায় ১২ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৬
কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৬ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। কয়েদি আবু বকর সিদ্দিক নিখোঁজের ঘটনায় একজন ডিআইজি প্রিজন্স, একজন সিনিয়র জেল সুপার ও একজন জেলারের সমন্বয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

কোনাবাড়ী থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ওই কয়েদির বিরুদ্ধে বিকেলে মামলা দায়ের করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য,আবু বকর সিদ্দিক ২০১১ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফাঁসির আসামি হিসেবে কাশিমপুর কারাগারে আসেন। ২০১২ সালের ২৭ জুলাই তার সাজা সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত।