নিচু জাতের শিক্ষক, তাই আলাদা পানির পাত্র

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৪৪:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

২০১৯। ডিজিটাল ইন্ডিয়া। মোদী সরকার। নতুন ভারত। আর সেই নতুন ভারতেই এক ‘নিচু জাতের’ শিক্ষকের পানি পানের জন্য জন্য স্কুলে রাখা হল আলাদা একটা কলসি। শিউরে উঠলেন? ঠিক। কিছুটা শিউরে ওঠার মতোই বিষয়। যে স্কুলে শিক্ষা নিতে আসে ছোট ছোট শিশুরা, তাদের শিক্ষক নিচুবর্ণের বলে, তাঁর জন্য আলাদা একটা কলসি রাখা হয়েছে! ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়াটাইমসের এক প্রতিবেদনে এমনই শিউরে ওঠার মত ঘটনা উঠে এসেছে।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাটের একটি স্কুলে একজন নিচুবর্ণের শিক্ষকের পানি পানের জন্য আলাদা কলসি রাখা হয়েছে। ৪৬ বছরের শিক্ষক কানহাইয়ালাল বারাইয়াকে একটি নোটিশ ধরানো হয়েছে। সে নোটিশ ধরিয়েছেন ওই স্কুলের উচ্চবর্ণের শিক্ষকরা। কারণ, বিদ্যালয়ের তিন উচ্চবর্ণের শিক্ষকের জন্য অন্য জায়গায় পানি সংরক্ষণ করা হয়। সেখান থেকেই পানি পান করে বড় ‘ভুল’ করে ফেলেছেন ৪৬ বছরের ওই নিচুবর্ণের শিক্ষক!

এই ঘটনার পর জাতিগত ভেদাভেদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই শিক্ষক। তারপরই তাকে গত ২৮ আগস্ট অন্য একটি স্কুলে বদলি করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত ১৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানসাং রাঠৌড়ের বিরুদ্ধে জাতপাত ভেদাভেদের অভিযোগ এনে পুলিশে দ্বারস্থ হয়েছিলেন কানহাইয়া। সঙ্গে তিনি এও অভিযোগ করেছিলেন যে, দুই বছর আগে যেদিন তিনি স্কুলে জয়েন করেছিলেন, সেদিন থেকেই ছাত্রদের কাছে এই জাতের নামে বজ্জাতির বিষ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

পুলিশের কাছে এফআইআরে কানহাইয়ালাল অভিযোগ করেছিলেন, ‘প্রধান শিক্ষক স্কুলে দুটি কলসির ব্যবস্থা করেছিলেন। যেহেতু আমি বাল্মিকী সম্প্রদায়ের, তাই আমার জন্য একটা কলসি আর বাকি তিন শিক্ষক কোলি প্যাটেল এবং দরবাদ সম্প্রদায়ের বলে তাদের জন্য আলাদা একটা কলসি। ৩ জুলাই প্রধান শিক্ষক কানহাইয়ালালকে বলেছিলেন, ‘তুমি বাল্মিকী সম্প্রদায়ের। ওদের কলসি থেকে জল খাবে না।’