নিজ যোগ্যতায় প্রধানমন্ত্রী’র শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা হওয়ার স্বপ্ন দেখি: আরিফ

প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০ | আপডেট: ৫:৫৭:অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

বাংলাদেশের শিশু অধিকারকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন আরিফ রহমান শিবলী। প্রতিটি কাজই দেশের মানুষ সহ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমর্থন ও প্রশংসা কুড়িয়েছে এখন অবধি। প্রথম আলোড়ন ফেলেন দেশের শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে অনলাইন ভিত্তিক ক্যাম্পিং করে।যেটা গনমাধ্যমের নজরে আসার সংবাদ প্রকাশ হয় সকল গনমাধ্যমে।

২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর উচ্চ আদালতের এক রুলের নির্দেশে ও সরকারের সহায়তায় বন্ধ হয় অসামাজিক সাইটগুলো। ২০১৮ সালে ডিসেম্বরে শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত অধিকার আদায়ে কাজ করে ‘ইউনিসেফের ‘ পক্ষ থেকে প্রশংসা পান এই বাংলাদেশী তরুন।

দ্বিতীয় ধাপে এই তরুন শিশু অধিকারকর্মী সালিশের নামে শিশু অত্যাচার বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।এই বাংলাদেশী শিশু অধিকারকর্মী’র ফেসবুক পোস্ট আহবানে সাড়া দেয় বিশ্বের একাধিক দেশের খেলোয়াড়, রাজনীতিবীদ সহ বিভিন্ন শ্রেনীর বিদেশী। এরপর ২০২০ সালের মার্চ মাসের ১তারিখে উচ্চ আদালত সকল প্রকার গনপিটুনি দ্বারা হত্যা, প্রহার ও গুজব বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন। তারপর পর ই মার্কিন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিশু সংগঠন ‘সেভ দ্যা চিলড্রেনস’ নজর কাড়েন ও প্রশংসা পান আরিফ।

২০১৯ সালে নভেম্বর মাস থেকে তৃতীয় ধাপে গর্ভে থাকা শিশু’র লিঙ্গ অগ্রীম জানানো বন্ধ করতে অনলাইন ভিত্তিক ক্যাম্পিং শুরু করেন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘আমেনেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল’ এই সদস্য।অবশেষে সেখানেও মিলে সাফল্য। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ উচ্চ আদালত এক রুল দ্বারা শিশু’র লিঙ্গ আল্ট্রাসনোগ্রাফি দ্বারা অগ্রীম জানানো বন্ধ করে।এতে করে পুরোদেশে গর্ভে কন্যা শিশু হত্যা ও গর্ভবতী নারী অত্যাচার কমে এসেছে বলে জানায় কানাডা ভিত্তিক শিশু সংগঠন ‘চিলড্রেনস ফাস্ট কানাডা’।

বাংলাদেশের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই তরুন শিশু অধিকারকর্মী।নিজ অর্থ দিয়ে সতেরো জন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সহায়তা পাশাপাশি ২৫০ বেশী অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুল কলেজে জেলা – উপজেলা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফিরিয়ে এনে দেশের পাশাপাশি প্রশংসা পেয়েছেন আন্তর্জাতিক মহলেও।

সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা পেতে সহায়তা ও আম্পান ঘূর্ণিঝড় শিশু মৃত্যু সংখ্যা কমিয়ে আনতে সরকারের সাথে কাজ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক প্রশংসা ভাসেন আরিফ।

জীবনের স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিবেদককে এই শিশু অধিকারকর্মী আরিফ বলেন,নিজ যোগ্যতায় একদিন প্রধানমন্ত্রী’র শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে চান তিনি। কেনও এমন ইচ্ছা জাগলো? এই প্রতিবেদককে এই ব্যাপারে আরিফ বলেন, আমি এখন যেভাবে কাজ করছি সেটা সরকারের বিভিন্ন মহলের সহায়তা নিয়ে করতে হচ্ছে।কিন্তু যদি প্রধানমন্ত্রী’র শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করি, তখন কাজগুলো করতে সুবিধা হবে এবং দ্রুত সুফল পাবে আমাদের শিশুরা।

রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা আছে কিনা এই প্রতিবেদককে এমন প্রশ্নে বলেন, কখনো ই না।কারন!আমার জগত সম্পুর্ন আলাদা। এই জগতে হানাহানি,হিংসা, বিদ্বেষ বলে কিছু নেই।সবসময় ই শিশু দের নিয়ে কাজ করতে চান বলেও নিশ্চিত করেন আরিফ।

২০১৪ সালে দক্ষিন এশিয়ার প্রথম শিশু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘ কিডস মিডিয়া ‘ চালু করে আলোচনায় আসেন এই বাংলাদেশী তরুন।ঢাকা ব্রিটিশ হাইকমিশন ও আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ভিত্তিক সংগঠন ‘আর্টিকেল নাইন্টিন’ সহায়তায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিস্থিতি সংক্রান্ত রিপোর্ট আয়োজনে শিশুদের পক্ষে বক্তব্য রেখে ঢাকার কুটনৈতিক মহল, জাতিসংঘের দক্ষিন এশীয় অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের অফিসার ও বিদেশী সাংবাদিকদের নজর কাড়েন।সেই বক্তব্য দেওয়ার পর ‘ ভয়েজ অব বাংলাদেশ চিলড্রেনস ‘ খ্যাতি পান আরিফ রহমান।