নিভৃতচারী কবি সুলতানা ফিরদৌসি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ১:৫৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

প্রচারবিমুখ এই লেখিকা বিনয়ের সাথেই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। তার সৃষ্টিকেই মানুষের কাছে তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। উদ্যমী, সে তন এবং সৃষ্টিশীল এক সত্ত্বা তিনি।

সুলতানা ফিরদৌসির জন্ম কুষ্টিয়ায়, ১১ই ডিসেম্বর, ১৯৭৪ সালে। তার বাবা কর্মরত ছিলেন এলজিইডিতে। সরকারি চাকরি হওয়ায় বদলি হওয়াটাও ছিল জীবনের অংশ।

ফিরদৌসির জন্মের সময় তার পরিবার ছিল কুষ্টিয়াতে। একটি মধ্যবিত্ত সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন ফিরদৌসি। ছোটবেলা থেকে তিনি আর তার ভাই বোনদের উৎসাহিত করা হয় সংস্কৃতির চর্চায়। তিনি শুরু করেন কবিতা লেখা। একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বাবার কাছ থেকে শিখেছেন দেশকে ভালোবাসতে।

বড় শহরের বাইরে মফস্বল শহর ও জেলায় বেড়ে উঠেছেন তিনি। দেখেছেন গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য। সেই সাথে দেখেছেন এই শাশ্বত সমাজে কেন জানি নারীরা অবহেলিত।

সবসময় পেরেছেন নারীদের পক্ষে কথা বলতে, সমতার কথা প্রসার করতে, নারীদের স্বনির্ভর করতে। তার কবিতায় এ নারীবাদী চিন্তাই ফুটে উঠে। ফিরদৌসি নিজেকেও নারীবাদীই বলেন।

ফিরদৌসি এ পর্যন্ত ছয়টি বই প্রকাশ করেছেন। এর মাঝে আছে উপন্যাস, ছোট গল্প সমগ্র, আর কবিতার বই। “তৃতীয় পক্ষ” তার প্রথম উপন্যাস যা বের হয় ১৯৯৯ সালে। “কীট ও দ্রোণপুষ্প” তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমি থেকে।

এছাড়া তিনি প্রকাশ করেছেন অনুদিত কাব্য সংকলন “এ গার্ল হ্যাজ নো নেইম”। “বৃক্ষেরা ভিজে যায়” এবং “অরণ্যে ফিরে আসি” তার দুইটি কবিতার বই। “এবার ঘরে ফেরার পালা” তার একমাত্র ছোট গল্প সংকলন।

ফিরদৌসি গবেষণাধর্মী কাজেও অংশ নিয়েছেন। বাংলা একাডেমির “ইয়াং রাইটারস প্রজেক্ট, ঢাকা” একটি গবেষণা কার্যে অংশ নেন তিনি ১৯৯৫ সালে। এছাড়া কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যশৈলী নিয়ে গবেষণা করেন ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে।

ফিরদৌসি যুক্ত আছেন একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। বাংলা একাডেমি, কালী, গাঁথা, বঙ্গীয় প্রতিটি সংগঠনের সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছেন বহ বছর যাবত।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও যুক্ত। পেশাগত জীবনেও তিনি সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ে কাজ করে থাকেন। সোশিও-ইকোনমিস্ট হিসেবে জনগণের সামাজিক উন্নয়ন, সাহায্য সহায়তা, নাগরিক সুবিধা এসব তার কাজের অন্তর্গত।

কাব্য চর্চায় অবদানের জন্য ভূষিত হয়েছেন একাধিক পুরষ্কারে। রূপসী বাঙলা পদক প্রাপ্ত হন বাঙালি কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক বাতায়ন এ্যাসোসিয়েশন দ্বারা। ২০১৩ সালে তিনি পদকটি পান।

২০১৯ সালে তিনি পান অগ্নিবীণা পদক। ভারতের সোনাজুরি কবিতা উৎসব, ২০১৯ এ তাকে এই বিরল স §াননা প্রদান করা হয়। আয়োজনে ছিল কলকাতায় অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন।

২০০৮ সালে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাহিত্য প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেলে নিয়োজিত ছিলেন ফিরদৌসি। এছাড়া ২০১৮ সালে ভারতীয় বাংলা একাডেমি আয়োজিত আধুনিক কবিতা প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সুচারুভাবে।

২১ বছর যাবত সাহিত্য ও কাব্য চর্চার সাথে যুক্ত কর্মঠ, প্রতিভাবান এবং সৃষ্টিশীল এই কবি আমাদের আরো বহু বছর কবিতা শুনিয়ে যাবেন এই আমাদের সকল ভক্ত-অনুরাগীদের প্রত্যাশা।