নির্বাচনি সমাবেশে মসজিদে হামলার ভিডিও দেখানোয় সমালোচনার মুখে এরদোয়ান

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ১০:২৮:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৯

জনসমর্থন বাড়ানোর জন্য নির্বাচনি সমাবেশে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলার ভিডিও দেখানোয় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এরদোয়ান তার সমাবেশে হামলাকারীর সম্প্রচারিত হত্যাকাণ্ডের লাইভ ভিডিওর কিছু অংশ ও অভিযুক্তের তথাকথিত ইশতেহারের কিছু অংশ উপস্থাপন করেছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স তুর্কি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ওই ভিডিও দেখানোর কারণে দেশে-বিদেশে অবস্থান করা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিঘ্নিত হতে পারে। যেখানে অভিযুক্ত নিউ জিল্যান্ডের নাগরিক নয়, সেখানে এমনভাবে ভিডিও প্রচার করলে তা নিউ জিল্যান্ডকে ভুলভাবে উপস্থাপন করবে। সেটা ‘অন্যায্য।’

রবিবারের সমাবেশটি আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য ছিল এই মাসের শেষে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনে আগে এরদোয়ানের দলের সমর্থন বাড়ানো। যদিও বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষের নিন্দা জানাতে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। অন্তত তিনটি সমাবেশে ভিডিওর কিছু অংশ ও তথাকথিত ইশতেহারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হয়েছে।

ওই সমাবেশে এরদোয়ান বলেছিলেন, ‘তুরস্ককে লক্ষ্যবস্তু বানাতে চেয়েছিল নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে হামলাকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তুরস্কের মুসলমানদের বিরুদ্ধে সে হুমকি দিয়ে বলেছে, ইউরোপে তুর্কিদের কোনও ঠাঁই নেই। ’

এ সময় তিনি লাইভে সম্প্রচার করা হত্যাকাণ্ডের ভিডিও কিছু অংশ সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিদের দেখান এবং তথাকথিত ইশতেহারের কিছু অংশ তুলে ধরেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিউ জিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স তুর্কি কর্মকর্তাদের বলেছেন, এভাবে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি দেখানো ‘অন্যায়।’ এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা নিউ জিল্যান্ডের নাগরিকরা বিপদাপন্ন হতে পারে। নিউ জিল্যান্ড সফরে যাওয়া তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

পিটার্সের ভাষ্য, ‘অভিযুক্ত নিউ জিল্যান্ডের নাগরিক নয়। এধরনের জিনিস আমাদের দেশকে ভুলভাবে উপস্থাপন করবে। এতে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা নিউ জিল্যান্ডবাসীর ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

এরদোয়ানের সমালোচনা করে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি’র মুখপাত্র ফয়েক ওজট্রাক বলেছেন, দুঃখজনক ঘটনা থেকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, কয়েকটি ভোট পাওয়ার জন্য ভয়ানক রক্তাক্ত কাণ্ড দেখানো কি ঠিক?

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা হয়। আল নূর মসজিদ ও লিনউডে অবস্থিত মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে উপনীত হয়েছে।

হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্ট একজন ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী,’ যে মনে করে ‘মুসলিমদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি’ তৈরি করা উচিত এবং শ্বেতাঙ্গরা ‘গণহত্যার শিকার।’ সে তার তথাকথিত ইশতেহারে হামলার বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য উপস্থাপন করেছিল, যেখানে আলাদা করে বলেছিল তুর্কিদের কথা।
Add Image