নির্বাচনের আগে আবারও বসবে সংসদ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ৬:১১:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন রোববার বিকেলে শুরু হয়েছে। নিয়ম রক্ষার স্বল্পকালীন এই অধিবেশন চলবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার বাদে প্রতিদিন বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হবে।

প্রয়োজনে স্পিকার অধিবেশনের মেয়াদ বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। অধিবেশন শুরুর দিন বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

কমিটির সভাপতি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য এবং সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, সমাজকল্যান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংসদের চিফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজ, মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৈঠকে অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত অধিবেশন চললে, নির্বাচনের আগে আরও একটি অধিবেশন বসবে। চলতি বছর ডিসেম্বরে একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার কথা। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার।

এই সরকারের অধীনে জরুরী প্রয়োজনে অধিবেশন আহবান করার সুযোগ থাকবে। আবার অধিবেশন চলাকালীন সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে সেক্ষত্রে আরেকটি অধিবেশন আহবান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

গত ১৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের ২২তম এই অধিবেশন আহ্বান করেন। এর আগে গত ১২ জুলাই সংসদের ২১তম অধিবেশন শেষ হয়।

কার্যোপদেষ্টা কমিটির তথ্যমতে, অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য ১১টি সরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সংসদে পাসের অপেক্ষায় ৩টি, কমিটিতে পরীক্ষাধীন ৯টি ও উত্থাপনের অপেক্ষায় ১১টিসহ মোট ২৩টি সরকারি বিল পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য কোন বেসরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে প্রাপ্ত ৭টি বেসরকারী বিলের মধ্যে উত্থাপনের অপেক্ষায় ১টি, কমিটিতে বিবেচনাধীন ৩টি ও কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাধীন ৩টি বিল রয়েছে।

এই অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮৪টি ও সাধারণ প্রশ্ন ১ হাজার ৫০৪টিসহ মোট ১ হাজার ৫৮৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া ১০৩টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত নোটিশ পাওয়া গেছে।

অধিবেশনের প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্যানেল স্পিকারের নাম ঘোষনা করেন। তার দেয়া নামের তালিকা অনুযায়ী যারা প্যানেল স্পিকার হয়েছেন তারা হলেন- সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ, এ বি তাজুল ইসলাম, মাহবুব উল আলম হানিফ, ফকরুল ইমাম এবং নূরজাহান বেগম। নিয়মানুযায়ী সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে উর্দ্ধক্রম অনুযায়ী এই পাঁচ জনের মধ্য থেকে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

চলতি সংসদের বেশ কয়েকজন চলতি সংসদের দু’জন সদস্য মারা যাওয়ায় এবারের সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে শোকপ্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। গত ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা রশিদী সুজা ও ১৩ আগস্ট বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম মারা গেছেন।

এছাড়াও জাতিসংঘের সাবেক মাহসচিব কফি আনান, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোজাফফর হোসেন, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এ এইচএম মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। শোকপ্রস্তাব শেষে প্রথম দিনের অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার।

উল্লেখ্য, চলতি দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। এ হিসেবে আগামী বছর ২৮ জানুয়ারি এর ৫ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হচ্ছে।