‘নির্বাচনে থাকার কৌশল নিতে হবে বিএনপিকে’

প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৪:২০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

কৌশলগতভাবে এগিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া উচিত বলে মনে করেন দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এরশাদের সময়সহ সব সরকারের আমলেই কৌশলগতভাবে এগিয়েছে এবং আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। বি্এনপিরও নির্বাচনে থাকার কৌশল নিতে হবে।

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’য়ের টকশো ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে তিনি এমন কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

নির্বাচনের ট্রেনে আওয়ামী লীগ উঠেছে সবার আগে- এ কথা উল্লেখ করে নাইমুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের যে কাউন্সিল অধিবেশনটা হয়, সেখানেই দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছিলেন আগামী নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সহজ হবে না। এবং তিনি চান না সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হোক। একই সঙ্গে সবাইকে মাঠপর্যায় থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

‘সুতরাং নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে যদি একটা সিরিয়াস প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র তৈরি হয় তখন যেন তার দলের প্রস্তুতিটা সঠিক থাকে, ভালো থাকে সে প্রস্তুতি শেখ হাসিনা নিয়ে রেখেছেন। এটা তিনি কন্টিনিউ করেছেন, বারবারই বলেন।’

বিএনপির নির্বাচনে আসা-না আসার ওপর দেশের আগামী দিনের রাজনীতি নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক। ‘আমার ব্যক্তিগত মতে, বিএনপির নির্বাচনে আসাটা উচিত। এ কারণে যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর আ.লীগ এতটা অজনপ্রিয় দল ছিল না যে ৩৯টা আসনের জন্য তাদের লড়তে হবে। তারপরও তাদের ক্ষমতায় আসতে ২১ বছরের মতো সময় লেগেছে।

‘এখানে বিএনপির নির্বাচনে না আসার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত বা আন্দোলন করে হোক, আওয়ামী লীগের সরকারকে মোকাবেলা করার শক্তি-সামর্থ্য যদি তারা দেখাতে না পারে, মানে মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রেখে পুলিশকে নিবৃত্ত করার শক্তি না দেখায়…প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ঠিক আছে তারা আন্দোলক করুক।…আসলে আন্দোলন করলে এবং তা যদি সহিংসতার দিকে যায় তাহলে সেটা মোকাবেলা করা সরকারের জন্য সহজ হয়। আবার কোনো আন্দোলন যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে সরকারকেও নড়বড়ে করা যাবে না।’

‘সম্পূর্ণ আমার বিবেচনায় বলছি, এখানে বিএনপি কৌশলগত বিষয়গুলো সম্ভবত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের ফল কী হবে জানি না, তবে আমি আশা করব আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো তারা ফল করতে পারবে কি না সেটা ডিপেন্ড করে জোট, মহাজোট বা কত ধরনের সংগঠনকে তারা সঙ্গে নিতে পারছে।

‘যেমন যেটা জানি, ড. কামাল হোসেন ও ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যে ঐক্য তৈরি হচ্ছে, এই ঐক্যের সঙ্গে বিএনপির কী সম্পর্ক হবে এবং এই ঐক্যের সঙ্গে জামায়াতকে সম্পৃক্ত করা যাবে কি যাবে না। ইনফেক্ট জামাতকে যদি বিএনপি না রাখে তাহলে এমন হবে- অন্যদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির যে লাভ হবে জামাত না থাকার কারণে ততটুকু আবার ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। তার মানে টেকনিক্যালি বিএনপির জন্য এটা একটা কঠিন হিসাব। জামায়াতকে না রেখে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে অন্য কোনো কৌশল বিএনপি করতে পারবে কি না আমি জানি না।’

জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি বিএনপির জন্য ইতিবাচক হয়- এমন বক্তব্য উঠে আসে নাইমুল ইসলামের কথায়। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই সমাবেশের সুযোগ পেয়েছে, তখনই কিন্তু ভালো জনসমাবেশ, কর্মসূচি দেখাতে পেরেছে। আমার মনে হয় এগুলো তাদের হিসাবে নিয়ে নির্বাচনে থাকার কৌশলগত চেষ্টাটা করতে হবে।

‘আ.লীগ নিজেও কিন্তু ২১ বছরে বিভিন্ন রকমের বেকায়দা মোকাবেলা করেছে। এই বেকায়দা মোকবেলা করতে করতে আজকে একটা অবস্থানে গিয়ে পৌঁছেছে। ক্ষমতায় আসতে পারে নাই ঠিকই, কিন্তু সামরিক শাসনসহ বিভিন্ন সময়ে নানান কৌশলে এগিয়েছে, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছে।

‘এরশাদের ক্ষমতা শেষ হওয়ার পরের সময়টা যদি ধরেন। এই সময়ে বিএনপি ও আ.লীগের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা কিন্তু পাঁচ বছরের। মানে (বিএনপির চেয়ে) আ.লীগ ক্ষমতায় বেশি থেকেছে মাত্র পাঁচ বছর। এটা কিন্তু বেশি সময় না।

‘আবার এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিল তখন নয় বছর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কিন্তু রাজপথের বিরোধী দল ছিল। তারপরও তারা ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপির সেই ট্র্যাক রেকর্ড আছে। শক্তিহীন বা অনেক সিনিয়র নেতা ছাড়াই টানা নয় বছর রাজপথে থেকে আবার ক্ষমতায় এসেছে। অথচ এখন কিন্তু বিএনপিতে সেই অনৈক্য হয়নি। এরশাদের সময়ে যেমন বিএনপির বড় নেতারা দল ছেড়ে মন্ত্রিত্বে গেছেন, এখন কিন্তু তেমন কেউ দল ছাড়েননি।’

নাইমুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র পাঁচ বছরের ইমব্যালেন্স, বিএনপি এত শক্তিহীন হবে কেন? শক্তিহীন যেটা হয়েছে, জামায়াতসহ গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলনটা হয়েছিল, আমার দৃষ্টিতে সেখানে কৌশলগত ভুল ছিল। ন্যাচারালি সেখানে সহিংসতা যুক্ত ছিল। এই ভুলের কারণে সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রচুর মামলা দেওয়া, পুলিশি অ্যাকশনের। এ কারণে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর শারীরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থানে বিপর্যয় এসেছে। আর এতে দলের কিছুটা সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।