নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমীর স্নানে মানুষের ঢল

বাদশাহ সৈকত বাদশাহ সৈকত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৫:০৪:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমীর স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে স্নান উপলক্ষে নিষেধাজ্ঞার কারনে এবার কোন মেলা বসেনি।

প্রতি বছর এই সময়ে অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারীতে অষ্টমীর স্নানে দেশ-বিদেশের লক্ষাধীক পূর্ণার্থী অংশ নেয়। ৩ থেকে ৪ কিলোমিটারব্যাপী ব্রহ্মপুত্র চরে বসে অষ্টমীর মেলা। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারনে চলা লকডাউনে উপজেলা প্রশাসন থেকে অষ্টমীর স্নান ও মেলার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রাত থেকে চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এবারের পূর্ণস্নানের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের পুটিমারী এলাকা নির্ধারিত স্থান থাকলেও নদের বিভিন্ন পয়েন্টে স্নান করে পুর্ণার্থীরা।

শতশত বছর ধরে সনাতন ধর্মালম্বীরা এই দিনে ব্রহ্মপুত্র নদের ত্রিধারায় স্নান করে আসছে। স্নান উৎসবে যোগ দেয়া পূর্ণার্থীরা জানান, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আজকের এই দিনে পুন্যস্নান করলে পুন্যতা লাভ করা যায়। তাই আমরা সামাজিক দুরত্ব মেনে স্নান করতে এসেছি।

প্রতি বছরের মেলা আয়োজনকারীরা জানান, করোনা আতঙ্ক আর প্রশাসনের নিষেজ্ঞা না থাকলে এবারে প্রায় ৫লাখেরও বেশি হিন্দু ধর্মাবলীর পূণ্যার্থীরা যোগ দিত স্নান উৎসবে।

চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ অনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের টহল টিম কাজ করছে। এর মধ্যে যারা সামনে পড়ছে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও যেখানে বেশি মানুষ সমাবেত হচ্ছে আমরা খবর পাওয়া মাত্রই পুলিষ সেখানেই যাচ্ছে এবং সকলকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, করোনা মহামারির কারনে এ বছর চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমীর স্নানের উপর নিষেজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিছিন্ন ভাবে নদের বিভিন্ন পয়েন্টে স্নান উৎসবে অংশ নিয়েছে বলে শুনেছি। পুলিশকে কঠোর অবস্থানে থাকার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।