নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিদ্যুতের আলোয় উদ্ভাসিত বৃদ্ধার জীর্ণ কুটির

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৩:২৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮

মোঃ সাদিকুর রহমান শাহ্ স্কলার, নীলফামারি: কোন খবরের কাগজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার বা প্রকাশ হয়নি সৈয়দপুর শহরের বাশবাড়ি মিস্ত্রী পাড়া ১৩ নং ওয়ার্ডের ঝুপড়িতে বসবাসকারী উর্দুভাষি বিধবা ও সন্তানহারা জুলেখা বেগম (৭৫) এর দৈন্দিন অনাহারি জীবনের কথা। জানতেন না কেহই ওই বিধবার ঘরে বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাওয়া একমাত্র মেয়ে আসমা খাতুন(৩৮) এর বিষয়ে।

সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রশীদ বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পেয়ে বৃদ্ধার জীর্ণ কুটিরে পরিদর্শনে যান। সেখানে বৃদ্ধা ও তার মেয়ের করুন অবস্থা দেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগষ্ট) দুপুরে ওই বৃদ্ধার ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সকল ব্যায় বহন করেন বিদ্যুত বিতরন কেন্দ্রের নির্বাহী আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ আলী জিন্নাহ। তিনি ও তার সহকারি প্রকৌশলী ভাগাভাগি করে নগদ অর্থের সহায়তায় সংযোগ উপকরন দিয়ে স্বামী-সন্তানহারা বৃদ্ধার ঘরে সংযোগের ব্যবস্থা করেন। এখন তার অবিবাহিত মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থাও চলছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ বাদি সংগঠন সেতু বন্ধনের সভাপতি আলমগীর হোসেন জানান,ওই বৃদ্ধার স্বামী-সন্তান কেউ নেই।

বর্তমান টি.এন.ও মহোদয় বিষয়টি অবগত হওয়ায় বৃদ্ধার মেয়ের বিয়ে সহ সমস্ত ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছেন। সে ভাবে সার্বিক বিবেচনায় পাত্র ঠিক করা হয়েছে। আগামী মাসেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। গত বৃহস্পতিবার বিধবা জুলেখা বেগম এর ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের দো-চালা ছাউনিতে কাপড় পলিথিনে ঘেরা জীর্ণ কুটির। বিদ্যুত বিহীন ঘরটির ভেতরে দিনের আলো প্রবেশ করে না। পুরো ঘরটি অন্ধকারে আছন্ন। অপরিছন্ন ছেড়া বিছানা। রান্নার চুলো,পাতিল,প্লেট ও একটি গ্লাস আহারের প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। সেই কুড়ে ঘরে বসে একান্ত আলাচারিতায় বৃদ্ধা জানায়, তার নিমর্ম জীবন প্রবাহের কষ্টের ইতিহাস।

স্বামী মোঃ উলফত হোসেনের পিতা আলাউদ্দিন ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার একজন শ্রমিক। চাকরি সুত্রে ভারতের জামালপুরের ভাগলপুর থেকে পাড়ি দিয়ে ১৯৩৫ সালে এখানে বসতি গড়েন। পাশাপাশি জুলেখা বেগমের পিতা আব্দুর রহমান ছিলেন তাদের প্রতিবেশি। পুর্ব পাকিস্তান শাসনামলে পারিবারিক সম্মতিতে এ শহরেই তাদের বিয়ে হয়। শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির মৃত্যুর পর স্বামী উলফত হোসেন কাচা বাজারে শ্রমিক আর ছেলে কাল্লু দিন মজুরের কাজ করতেন। ভালই কাটছিল তাদের জীবন। তবে নিয়তি যেন তাদের সুখ স্বপ্ন চুড়মাড় করে দেয়। দশ বছর আগে ছেলে কাল্লু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর ৫ বছর পর স্বামীর মৃত্যু হয়। এতে পুরুষ শুন্য পরিবারে নেমে আসে চড়ম দুর্দশা। যুবতি মেয়ে বৃদ্ধা মায়ের দাদ্রিতার কষাঘাতে অভিভাবকহীন জীবনের নিরাপত্তা আর অভাব যেন ঘরকুনো করে রাখে। এভাবে তীব্র অভাবের নিরর যাতনায় কুকড়িয়ে কাটছে এ বৃদ্ধা মা ও যুবতি মেয়ের জীবন। এ ব্যাথাতুর দৃশ্যর চিত্র পাল্টাতে বৃদ্ধার পরিবারের অভিভাবকের ভুমিকায় অর্বতির্ণ হয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, মানুষ মানুষের পাশে দাড়াবে এটাই স্বাভাবিক। এমন মানুষের সেবার জন্য সকলকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আর বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন অসহায় মানুষের পাশে সব সময় আছেন।