নেতাকে টোপ হিসেবে কাজে লাগিয়ে অন্য দুই নেতাকে ধরলো পুলিশ

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার ইসলাম ইমন অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রায়হান শেখ (৪০) ও নাসিউল করিম নীরব (১৮)। বুধবার দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড় থেকে ইমনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের দুই ঘণ্টা পর সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার রায়হান শেখ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯নং ওয়ার্ড শাখার সাবেক সভাপতি এবং নীরব স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী।

বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, শহরের জলেশ্বরীতলার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে ইমন বগুড়া জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে সে স্কুল থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড় থেকে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে এবং কৌশলে ইমনকে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নিয়ে যায়। পরে দুর্বৃত্তরা ফোনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। ইমনের পরিবারের সদস্যরা সদর থানায় বিষয়টি জানায়। পুলিশ তৎপর হলে তারা ইমনকে ছেড়ে দেয়। বিকেল ৩টার দিকে তাকে শহরের সুত্রাপুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এরপর পুলিশ সন্ধ্যায় শহরের রহমাননগর এলাকায় শহীদ আবদুল জোব্বার ক্লাবে হানা দেয়। সেখান থেকে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিমুল বারী নাসিমসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে নাসিমের মাধ্যমে অপহরণে জড়িত রায়হান ও নীরবকে থানায় ডেকে এনে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে নাসিমদের ছেড়ে দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় রাতেই স্কুলছাত্র শাহরিয়ার ইসলাম ইমনের মা মনিকা ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বুধবার দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাপ্পী বলেন, সংগঠনের ওই দুই নেতা অপহরণে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমি পুলিশকে অনুরোধ করেছি। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।