নৈশ্য প্রহরী ছাড়াই চলছে যশোর কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেল

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৪:১৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
যশোর জেলা

যশোর শহরের ভোলা ট্যাংক রোডস্থ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আওতাধীন কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেল নৈশ্য প্রহরী বিহীন চলছে। এখানে অবস্থানরত বোর্ডারগন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতি পাত করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পিয়ন,ঝাড়–দারসহ জনবলের অভাবে চলছে এই হোষ্টেলের কার্যক্রম। বর্তমানে এখানে হোষ্টেল ভাড়া থেকে প্রাপ্ত উপার্জিত অর্থ দিয়ে অফিস সহকারীর ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারী ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বেহালদশায় পরিণত হয়েছে এর কার্যক্রম।

রোববার সরেজমিনে কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলে গিয়ে দেখা গেছে,বর্তমানে এখানে কোন নৈশ্য প্রহরীর ব্যবস্থা নেয়। প্রায় ছয় মাস পূর্বে একজন ছিলেন তাও আবার তিনি চলে গেছেন। সেই থেকে পুরো কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেল অরক্ষিত। হোষ্টেলে বর্তমানে মেহেরুন্নাহান নামীয় একজন নারী হোষ্টেলের ভাড়ায় অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন বিগত ১৪ বছর যাবত।

১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আন্তরিকতার কারণে যশোর শহরের ভোলাট্যাংক রোডস্থ নব কিশোলয় স্কুলের পূর্ব পাশে স্থাপিত হয় কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেল। স্থাপিত হওয়ার পর হোষ্টেলে নৈশ্য প্রহরী,পিয়ন,ঝাড়–দারসহ সব ক’টি পদ চালু ছিল। কালক্রমে সেই পদগুলি আস্তে আস্তে শুন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে অফিস সহকারী মেহেরুন্নাহার ছাড়া উক্ত কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলে আর কেউ দায়িত্ব পালন করছেন না।

তিনি জানান,কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলে ৩৬টি আসন রয়েছে। বর্তমানে ১১টি কক্ষের সবক’টি কক্ষে কর্মজীবি মহিলাগন অবস্থান করছেন। তিনি জানান,বর্তমানে এখানে সরকারী ব্যাংক কর্মকর্তা, কলেজ শিক্ষিকা, বিভিন্ন কলেজের নারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন।

এখানে অবস্থানগতরা মাথাপিছু মাসিক ৭শ’ টাকা হারে ভাড়ার ভিত্তিতে নিজ ব্যবস্থাপনায় খাওয়া দাওয়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন। কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলের ভবন গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন। তবে এই হোষ্টেলে বিদ্যুৎ সংযোগের সরাঞ্জাম ও হোষ্টেলের আসবাবপত্রসহ যন্ত্রপাতির অর্থ মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত।

এ যাবত এখানে হোষ্টেলের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে তেমন কোন উদ্যোগ যশোর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর গ্রহন করেননি। সম্প্রতি এই হোষ্টেলের উন্নয়নের জন্য একটি অর্থ বরাদ্ধ করা হয়েছে। উন্নয়নের বরাদ্ধকৃত অর্থ দিয়ে ইতিমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে সনি টেলিভিশন,কম্পিটার সরাঞ্জাম, স্কেনার,প্রিন্টার,৬টি সিসি ক্যামেরা,ডিজিটাল ফটোকপি মেশিন ও ফ্রিজ।

কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলের অফিস সহকারীর দায়িত্বরত মেহেরুন্নাহার উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধকৃত উল্লেখিত মালামাল গত ৩১ আগষ্ট বুঝে নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলের চাহিদা মোতাবেক বর্তমানে যে বাজেট বরাদ্ধ এসেছে সে ব্যাপারে অফিস সহকারী কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

তবে হোষ্টেলের নিরাপত্তার জন্য নৈশ্য প্রহরীর ব্যাপারে তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান,বিগত ৬ মাস যাবত এখানে কোন নৈশ্য প্রহরী নাই। ফলে বর্তমানে এই হোষ্টেল অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর এখানে অবস্থানরত ৩৬জন বোর্ডার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বোর্ডার জানিয়েছেন, গত বছর এই হোষ্টেলে একজন বোর্ডারের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। নৈশ্য প্রহরী বিহীন যশোর কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলে অবস্থানরত বোর্ডারগন রাত হলে চরম আতংকের মধ্যে রাত পার করতে বাধ্য হয়।

নৈশ্য প্রহরী বিহীন কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলের কার্যক্রমের ব্যাপারে যশোরে মহিলা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সখিনা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে বলা হয়েছে। বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে এখনও জানানো হয়নি। আগামীকাল জানানো হবে বলে তিনি বলেন।

একটি সূত্র বলেছে,কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলের ইলেক্ট্রিক ও আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনী মালামাল ক্রয় কমিটিতে বর্তমানে এক মাত্র দায়িত্ব পালনকারী অফিস সহকারী মেহেরুন্নাহারকে রাখা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন তাকে রাখা হয়নি। তবে কর্মজীবি মহিলা হোষ্টেলে প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের জন্য কি পরিমান অর্থ বরাদ্ধ রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে মেহেরুন্নাহার বলেন তিনি কিছুই জানেন না।