নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অফিস ভাঙচুর, ধীরগতিতে চলছে তদন্ত

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৪:৪৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

আবদুল্লাহ আল নোমান, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (নোবিপ্রবিসাস)দপ্তরে অনাকাঙ্খিত ভাংচুরের ঘটনায় আজ প্রায় দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেখা মেলেনি অপরাধী চিহ্নিত করনের যুগান্তকারী কোনো পদক্ষেপ। এ ঘটনায় গত , ২১ জুলাই (মঙ্গলবার)গঠিত এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির হতাশাজনক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে।

তদন্ত কমিটির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী প্রক্টর মজনুর রহমান বলেন,আসলে এক সদস্য বিশিষ্ট কোনো তদন্ত কমিটি হয় না। ঈদের পর ক্যাম্পাস খুললে তদন্ত কমিটি বর্ধিত করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আবেদন করবো। আশা করছি পরবর্তী ৪/৫ কর্মদিবসের মধ্যে আমরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারবো।তিনি আরও জানান, রবিবার (২৬ জুলাই) শেষ কর্ম দিবসে আমি তদন্ত কমিটির অফিস কপি হাতে পেয়েছি এবং প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষে তদন্ত শুরু করেছি।

এদিকে প্রশাসনের দায়সারা মনোভাব ও তদন্তের অগ্রগতি না দেখে হতাশনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সবুজ।

তিনি বলেন, ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপ হতাশাজনক। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে দায়সাড়া ভাবে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও আমরা দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। সাংবাদিক সমিতির অফিস ভাংচুরের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশেরই সুযোগ করে দেয়। তাই প্রশাসন কে অনুরোধ করছি বিষয়টি কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অতিদ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করুন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করুন।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন এবং শিক্ষক,শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলের অধিকার নিয়ে সর্বদা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস এবং ছাত্র পরামর্শ নির্দেশনা বিভাগের সন্নিকটে সাংবাদিক সমিতির অফিসে হামলার ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই ধরনের হামলা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতা অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মৌনসম্মতিতে এই ঘটনা হয়েছে বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয় নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার কোন অগ্রগতি নেই যেটা তদন্ত কমিটির বক্তব্যেই সুস্পষ্ট। সাংবাদিক সমিতির হামলার ঘটনায় অতিদ্রুত জড়িতদের বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। অন্যথায় সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

উল্লেখ,করোনাকালীন গত তিন মাস ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় নিয়মিত দপ্তরে যাওয়া হয়নি সংগঠনের সদস্যদের এরই মধ্যে গত ১৬ জুলাই উপস্থিত হয়ে দুর্বৃত্তদের দ্বারা নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পায় সমিতির কতিপয় সদস্যরা।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।