নড়াইলে নৌকার বিরোধিতা করায় বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন ৪ বিদ্রোহী প্রার্থী

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৫৯:অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

নড়াইলের তিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া চার পদধারী নেতার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়া লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনুর নামও আছে।

শনিবার (২০জুলাই) থেকেই কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ডাকযোগে শোকজ নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। ফলে সারাদেশের মতো নড়াইলের আ’লীগের চার নেতা সাময়িক বহিস্কার হচ্ছেন। নড়াইলের এই ৪ নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করার পাশাপাশি কেন স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিস্কার করা হবে না,এই মর্মে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠানো হচ্ছে।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। জবাব পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তা যাচাই-বাছাই করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নড়াইল সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলুকে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন নড়াইল পৌর যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব বিশ্বাস বিলো (আনারস প্রতিক)। নৌকা প্রতিকে নিজাম উদ্দিন খান নিলু ৪১ হাজার ৯’শ ৪৫ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী নড়াইল পৌর যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব বিশ্বাস বিলো (আনারস প্রতিক) ভোট পান ৩৮ হাজার ১’শ ৪৮টি।

লোহাগড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় ঢাকায় অবস্থানকারী সাবেক কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুল বাশার ডলারকে। এ উপজেলায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু (আনারস প্রতিক) এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু (মোটরসাইকেল প্রতিক)। নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু আনারস প্রতিক নিয়ে ৩৬ হাজার ৩’শ ১৭ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকা প্রতিকের প্রার্থী রাশেদুল বাশার ডলার ২১হাজার ২’শ ২৫ ভোট পান। কালিয়া উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষকে নৌকা প্রতিক দেয়া হয়। এ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হারুনার রশিদ আনারস প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি করেন।

নৌকা প্রতিকে কৃষ্ণপদ ঘোষ ৪২হাজার ৮’শ ৪৯ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হারুনার রশিদ আনারস প্রতিকে ২০ হাজার ৬’শ ১৪ ভোট পান। সদ্য সমাপ্ত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেশের অন্যান্য জেলার মতো নড়াইলেও আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ লড়াই হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন মাসের মাথায় বিএনপি জোটবিহীন একতরফা এ নির্বাচনে ভিন্নতর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। এবার আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নৌকার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জিতেছে। কেন্দ্র থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও কোন কাজ হয়নি। অনেককে সাময়িকভাবে বহিস্কারও করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবনে’ গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তবে অফিসিয়ালী কোন চিঠি এখনও হাতে পাননি। হাতে পেলে চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন।