পটিয়ায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে নিহতের ঘটনায় আটক ১

এলাকায় থমথম পরিস্তিতি , অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৯:০১:অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১

কাউছার আলম, পটিয়া, (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্রগ্রামের পটিয়ায় আম পাড়া নিয়ে কেন্দ্র করে একজন নিহত হওয়ায় ঘটনায় আবদুল আলিম (৩০) নামের একজনকে আটক করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কোলাগাও ইউনিয়নের বানিগ্রাম এলাকার তার এক নিকট আতিœয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়েছে ।

এদিকে সকালে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকা থমথম পরিস্তিতি বিরাজ করছে । এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।

এসময় নিহতের বড়ভাই ইউসুফ বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৩ মে) আমাদের গাছ থেকে জোরপূবৃক আমপাড়াকে কেন্দ্র করে আমার ভাই নাছিরের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। আমি গিয়ে ঘাতক আবদুর রহিমকে বলি আমপাড়লে পাড়লি কিন্ত আমার ভাইয়দের সাথে কোনরকমের সংঘাতে না জড়ানোর জন্য অনুরোধ জানায়। তখন খুনি আবদুর রহিম আমাকে বলেন আমাদের সরকার ক্ষমতায় আমরাকি হাতে মেহেদী দিয়ে বসে থাকব । আমাদের কথায় গোরনখাইন কাপে । এ হুমকির পর থেকেই তারা পরিকল্পনা করতে থাকেন হত্যাকান্ডের।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে আরো জানা যায়, গতকাল রবিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে নিহত এরশাদ আলম ও তার বড়ভাই নাছির সহ মোটরসাইকেল যোগে শহরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে ফকিরা মসজিদ বাজারের কাছাকাছি আসলেই আগহতে রাম দা নিয়ে ঘাতক আবদুর রহিম,আবদুন নুর ও আবদুল আলীম অবস্তান করছেন । ঠিক সে সময় এরশাদ মোটর সাইকেল চালিয়ে ঐ স্হানে আসলেই ঘাতকরা তাদের উপর উপরর্যপুরি রাম দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকেন । এক পর্যায়ে ঘাতকরা চলে গেলে স্হানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে এরশাদকে মৃত ঘোষনা করেন এবং গুরতর আহত আরেক ভাই নাছিরকে হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে ।

এদিকে সরেজমিনে স্হানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফকিরা মসজিদ বাজারে উভয়ের জায়গা রয়েছে । যে যার মতো ভোগদখল করে আসছে । জোর পূর্বক আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এরকম একটি নৃশংস হত্যাকান্ডে এলাকাবাসীরাও হতবাক ।

তারা আরো জানান , ঘাতকরা তিন ভায়ের মধ্যে আবদুন নূর এলাকার চিহÍত ইয়াবা ব্যাবসায়ী । তারা ফকিরা মসজিদ বাজারে একটি মুদির দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যাবসা করে থাকেন । তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবনি বোর্ড ব্যাবহার করে এলাকায় আরো নানা অপরাধ কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেন ।

অপরদিকে নিহত এরশাদ আলম উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়াডের গোরনখাইন এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে । তারা ৭ ভাই ৪ বোনের মধ্যে এরশাদ সবার ছোট । নিহত এরশাদ সৈাদি আরব হতে দুই বছর আগে দেশে ফিরেছেন । সে অবিবাহিত ।

এব্যাপারে স্হানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙীর আলম বলেন , আমি তাদের ঘটনাটি শুনেছি গতকাল রাতে ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পর। আমি যদি আগে জানতে পারতাম বা কেউ যদি আমাকে বলতেন তাহলে আমি মিমাংসা করে দিতাম । তবে এ ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন এ জন প্রতিনিধি।

পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এজাজ চৌধুরীর নিজ এলাকা হওয়ায় তাকে এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ঘাতকরা স্হানীয় আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে ইয়াবাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলেন, আমি তো রাজনৈতিক ভাবে ওদের কে ছিনিনা আর এটা তো রাজনীতির বিষয় না । আমি আওয়ামী লীগ করি ঠিক আছে এরকম বখাটে কোন ছেলে পেলে স্হানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন।
এদিকে নিহতের লাশ চমেক হাসপাতাল হতে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে । বিকেল সাড়ে পাচটার সময় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্হানে দাপন শেষ করে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন নহিতের বড় ভাই ইউসুফ ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার জানান, ফকিরা মসজিদ এলাকায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এরশাদ ও তার বড় ভাই নাছিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরতর আহত করলে পরে হাসপাতালে এরশাদ মারা যান। এ ঘটনায় আবদুল আলীম নামের একজনকে আটক করেছি । অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি রেজাউল করিম।