পটিয়া হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ বৃদ্ধি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২১ | আপডেট: ৮:০৫:অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২১

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। উপজেলা হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন নারী-শিশুসহ শতাধিক রোগী। এনিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ডায়রিয়ার রোগীর জন্য ৫০ টি বেড রয়েছে। বেড খালি না পেয়ে বাধ্য হয়ে রোগীরা হাসপাতালের বারান্দায় ও সিড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল থেকে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা।

গত এক মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৫৮৫ জন তাদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৭৩ জন। এরমধ্যে গত সাত দিনে ৪২৭ জন এদের মধ্যে ৩৪০ জন ডায়রিয়া রোগী এবং গত ২৪ ঘণ্টায় দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানান, তীব্র গরমে গত এক সপ্তাহে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত এক হাজার মানুষ। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি রোগী। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও বয়স্ক। গরম, যথেচ্ছ খাবারসহ নানা কারণে মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তানভির আহমেদ বলেন, ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দিতে আমরা যথাযথ চেষ্টা করছি।

ইডিসিএল থেকে স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন যে হারে ডায়রিয়া রোগী আসছে তাতে ডাক্তার-নার্সসহ আয়াদের পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৭৯ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডাক্তার তানভির আহমেদ আরো জানান, ডায়রিয়ার প্রধান চিকিৎসা শরীরে লবণ ও পানির ঘাটতি পূরণ করা। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক দরকার হতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিরাপথে দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক ও খাবার স্যালাইনের সাপ্লাই রয়েছে। তবে শয্যা ও জনবল সংকটের জন্য হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরিবেশ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, এ মাসের শুরু থেকে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হঠাৎ গরম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে এমনটি হতে পারে।

পটিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার সব্যচাষী নাথ বলেন, অন্য সময়ের চেয়ে এবছর ডায়রিয়া আক্রান্তের হার অনেক বেশি। করোনা ও ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দিতে ইতোমধ্যে ডাক্তার ও নার্সরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।