পথশিশুদের সহযোগিতায় সেভ দ্য টুমরো’র অনলাইন প্রদর্শনী

ওয়াহিদুল ইসলাম ওয়াহিদুল ইসলাম

জাককানইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০ | আপডেট: ৬:১৯:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

করোনাভাইরাইসের ক্রান্তলগ্নপ সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের সহযোগিতায় ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সেভ দ্য টুমরো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

রবিবার (৩১মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সংগঠনটির পেইজ থেকে লাইভে সপ্তাহব্যাপী চলা ফটোগ্রাফি কনটেস্ট এর ফলাফল ঘোষণা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

এসময় লাইভে সংযুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, সেভ দ্য টুমরো ফাউন্ডেশনের পরিচালক শরীফ ওবায়দুল্লাহ, সেভ দ্য টুমরো জাককানইবি শাখার সভাপতি আশিকুর রহমান সৈকত ও সাধারণ সম্পাদক সারজীল হাসান।

আয়োজকেরা জানান, এ প্রদর্শনী চলমান থাকবে। যত দিন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলবে, তাঁদের এ প্রদর্শনীও চলবে।

অসহায়দের আর্থিকভাবে সাহায্যের জন্য অন্তত একটি শিল্পকর্ম কেনার আহ্বান জানান তাঁরা। শিল্পকর্ম কিনতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ০১৭২০০২২০২৬, ০১৬২১৬৪৬০৩২ নম্বরে অথবা ফেসবুক পেজে। আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, জাককানইবি।

আশিকুর রহমান সৈকত জানান, চিত্রকর্মগুলোর নির্ধারিত মূল্য থাকলেও যে যার সাধ্য অনুযায়ী পছন্দের চিত্রকর্ম ক্রয় করতে পারবেন। নির্বাচিত সেরা বিশটি সহ সর্বমোট ২৩টি ছবি নিয়ে চলছে এই অনলাইন প্রদর্শনী।

সবাইকে ফেসবুক পেজ থেকে পছন্দের ছবি কিনে অসহায় পথশিশুদের সাহায্যের জন্য দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলেন, আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? আমরা সাহায্য না করলে এই পথশিশুদের সহযোগিতায় কে দাঁড়াবে পাশে?

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, প্রত্যেকটা ছবিই সুন্দর। প্রত্যেকটা ছবিই এক একটা স্টোরি বলে। আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শৈশবকে, আমাদের ভালোলাগার মুহূর্তগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। আসলে আমিও ছবি তুলতে অনেক ভালোবাসি। পছন্দ করি। ছবিটা হচ্ছে লাইফ টাইম স্মৃতি। আজকে একটা মোমেন্টকে ধরে রাখা৷ ইনশাআল্লাহ আজ থেকে ৫০ বছর পরেও নাতি নাতনিদের দেখানো যাবে যে দেখো আমি এটা করেছি ওটা করেছি। এই স্মৃতিগুলো, এটা হল অন্য রকম ভালোলাগা। আসলো ফটোগ্রাফি জিনিসটা তো এতো ইজি না বা সহজ কিছু নয়৷ এরমধ্যে অধ্যাবসায়, ধ্যান, ভালোবাসা লাগে। এমন আছে একটা মোমেন্ট নেওয়ার জন্য এক ঘন্টা – দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। বা অনেক পথ পারি দিতে হয়।

রাইট মোমেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সো যারা এই কঠিন চ্যালেঞ্জটি নিয়ে এই কাজগুলো করেছেন এবং অনিন্দ সুন্দর দৃশ্যগুলোকে ফ্রেমবন্দী করেছেন তাদের জন্য অনেক ভালোবাসা এবং অভিনন্দন। আমি চাইবো আশা করবো যে বিভিন্ন আইডিয়া কাজে লাগিয়ে যেন এই ধরণের কনটেস্ট সেভ দ্যা টুমরো প্লাটফর্ম থেকে আরো হয়। এখন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় করেছে। সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেন এমন কাজ করা হয়৷ আমি খুব করে চাইবো। সম্ভব হলে আমি নিজেও ছবি দিবো। সুযোগ দেওয়া হলে আমারো অনেক ছবি আছে তোলা। আমার ফোন দিয়ে তোলা তো অনেক ছবি ভালো আসছে আল্লাহ রহমতে। আমিও ছবি দিবো ইনশাআল্লাহ। আবারো বিজয়ী সহ সবার জন্য অভিনন্দন ভালোবাসা।

সেভ দ্য টুমরোর পরিচালক শরীফ ওবায়দুল্লাহ জানান, দ্য টুমরো বরাবরের মতোই প্রতিভা বিকাশের জন্য কাজ করে আসছেন।সেটা পথশিশুদের জন্য হোক আর আমাদের সদস্যদের জন্য হোক। এবার আয়োজন ছিলো সদস্যদের ফটো কনটেস্ট নিয়ে।যেটা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিভা বিকাশের এই আয়োজনে সেভ দ্য টুমরো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ।

সেভ দ্য টুমরো জাককানইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সারজীল হাসান জানান, সেভ দ্যা টুমরো ফটো কনটেস্টে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের সকলের জন্য শুভকামনা এবং বিজয়ীদের অভিনন্দন। আশা করি মানুষের জন্য করা যে কোনো ভালো কাজে আপনাদের সবসময়ই পাশে পাবো। আর আপনাদের সহযোগিতায়ই অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে আমরা সেভ দ্যা টুমরো ফাউন্ডেশন থাকবো। সবার জন্য শুভকামনা এবং ভালোবাসা। ভালো থাকুক প্রত্যেকটা মানুষ।