পরিবারের সবাই ইয়াবা ব্যবসায়ী!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৪৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

জহির আহমেদ ওরফে মৌলভী জহির প্রায় ১৫ বছর আগে থেকে টেকনাফে সিএনএফ এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করেন। আর সেই সুবাদে তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। জহিরের স্ত্রী, কন্যা, জামাতা থেকে শুরু করে পুরো পরিবার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড থেকে দুই লাখ সাত হাজার ইয়াবা ও সাড়ে ১৬ লাখ টাকাসহ টেকনাফের অন্যতম তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী জহির আহমেদসহ ছয়জনকে আটকের পর তাদের কাছ বেরিয়ে আসে বার্মাইয়া আলমের নাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

এসময় জানানো হয়, মায়ানমারের নাগরিক আলম। মায়ানমার থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফে ইয়াবার চালান নিয়ে আসা ও আর্থিক লেনদেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন এই আলম। নিয়মিত আসা যাওয়ার কারণে টেকনাফ এলাকায় তার নাম ‘বার্মাইয়া আলম’।

জিজ্ঞাবাদে জহির আহমেদ র‌্যাবকে জানিয়েছেন, এ ধরনের বড় বড় ইয়াবার চালান তিনি ও তার লোকজন বার্মাইয়া আলমের কাছ থেকেই সংগ্রহ করতেন। এরপর তার জামাতা আবদুল আমিন, নুরুল আমিন ও আটক মোমিন টেকনাফ এবং কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতেন। এ ক্ষেত্রে তারা বিলাসবহুল বাস ও কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করতেন।

মুফতি মাহমুদ খান জানান, সকালে র‌্যাব ২-এর একটি আভিযানিক দল বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অভিযান চালায়। সেখানের দুটি বাসায় রক্ষিত অবস্থায় দুই লাখ সাত হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য সাত কোটি ২৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এ সময় নগদ ১৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।

এ সময় আটক করা হয় ফয়সাল আহমেদ (৩১), মিরাজ উদ্দিন নিশান (২১), তৌফিকুল ইসলাম ওরফে সানি (২১) ও সঞ্জয় হালদারকে (২০)। পরে জিজ্ঞাসাবাদের তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এলিফ্যান্ট রোডের আরেকটি বাসা থেকে এই চক্রের মূল ব্যক্তি জহির আহম্মেদ ওরফে মৌলভী জহির (৬০), মমিনুল আলম মোমিনকে (৩০) আটক করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান জানান, মৌলভী জহির প্রায় ১৫ বছর আগে থেকে টেকনাফে সিএনএফ এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করেন। আর সেই সুবাদে তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। জহিরের স্ত্রী, কন্যা, জামাতা থেকে শুরু করে পুরো পরিবার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও জানান তিনি।

র‌্যাব পরিচালক জানান, বার্মাইয়া আলম মিয়ানমারের নাগরিক হলেও টেকনাফে তার বাড়ি রয়েছে। তিনি ওই এলাকায় বহু বছর আগে থেকেই আসা-যাওয়া করেন। বার্মাইয়া আলমের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অচিরেই তার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলেও জানান মুফতি মাহমুদ।

তিনি আরও জানান, আটক ফয়সাল আহাম্মেদ রাজধানীর একটি বেসরাকারি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত রয়েছেন। সে দীর্ঘ তিন বছর ধরে ইয়াবা সেবন করে আসছিল। পরে সে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া মিরাজ উদ্দিন নিশান রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে ১ম বর্ষের ছাত্র। আটক তৌফিকুল ইসলাম সানি ঢাকার একটি কলেজে ম্যানেজমেন্ট ১ম বর্ষের ছাত্র এবং শ্রী সঞ্জয় চন্দ্র হাওলাদার মাদারীপুরের একটি কলেজে পড়াশোনা করেন। এই তিনজনই পড়াশোনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা করতেন।

জিজ্ঞাবাদে জহির আহমেদ র‌্যাবকে জানিয়েছেন, এ ধরনের বড় বড় ইয়াবার চালান তিনি ও তার লোকজন বার্মাইয়া আলমের কাছ থেকেই সংগ্রহ করতেন। এরপর তার জামাতা আবদুল আমিন, নুরুল আমিন ও আটক মোমিন টেকনাফ এবং কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতেন। এ ক্ষেত্রে তারা বিলাসবহুল বাস ও কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করতেন।

র‌্যাব পরিচালক জানান, বার্মাইয়া আলম মায়ানমারের নাগরিক হলেও টেকনাফে তার বাড়ি রয়েছে। তিনি ওই এলাকায় বহু বছর আগে থেকেই আসা-যাওয়া করেন। বার্মাইয়া আলমের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অচিরেই তার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলেও জানান মুফতি মাহমুদ।