পলাশে নিখোঁজ হওয়া সেই সাড়ে ৩ বছরের বাচ্চা তৌহিদকে উদ্ধার

তারেক পাঠান তারেক পাঠান

পলাশ(নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া স্কুল ছাত্র সিয়ামের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে নিখোঁজ শিশু তৌহিদুল এমন একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক মাধ্যমে।

সংবাদ প্রকাশের দুই দিনের মাথায় সেই নিখোঁজ সাড়ে তিন বছরের বাচ্চা তৌহিদুলকে আজ ২৩ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কাপাসিয়ার দক্ষিণ গাঁও গ্রাম থেকে উদ্ধার করে পলাশ থানা পুলিশ। তৌহিদুল পলাশ উপজেলার বালুচরপাড়া গ্রামের নান্নু খানের পালিত নাতি।

পলাশ থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বালুচর পাড়া গ্রামের নান্নু খানের মেয়ে রেক্সোনা গত তিন মাস আগে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গ্রামের হতদরিদ্র আলাউদ্দিনের কাছ থেকে তৌহিদুল নামের ওই শিশুটিকে পালক আনে।

পরে গত রমজান ঈদের ১০ দিন পর শিশু তৌহিদুলকে রেক্সোনা তার মা-বাবার কাছে রেখে সাতক্ষীরা তার স্বামীর বাড়িতে চলে গেলে রেক্সোনার মা-বাবা শিশুটিকে লালন-পালন করতে থাকে। এ দিকে গত ২১ জুলাই রোববার রাতে রেক্সোনার বাবা নান্নু খান পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করে।

এতে উল্লেখ করে, শিশু তৌহিদুল রোববার বিকেলে থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরের দিন ২২ জুলাই সোমবার দিনব্যাপী উপজেলার আনাচে কানাচে শিশু তৌহিদুলের সন্ধান চেয়ে মাইকিং করানো হয়।

সংবাটি গত ২২ জুলাই সোমবার বিকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশ হলে টনক নড়ে স্থানীয় থানা পুলিশের । মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাশ থানার এসআই সুমন শিশু তৌহিদের নিখোঁজের বিষয়টি অধিতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে। পরে তদন্তকালে রেক্সোনার মা রানু বেগম (৫২)কে সন্দেহ হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করে।

দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর রানু বেগম শিশু তাওহিদকে ১২ হাজার টাকায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার দক্ষিণ গাঁও গ্রামের নিঃসন্তান বাবুল মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে আজ মঙ্গলবার সকালে পলাশ থানা পুলিশ কাপাসিয়া দক্ষিণ গাঁও গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, শিশু তৌহিদুলকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত রানু বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।