পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন শুরু হলেও স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৫:২৬:অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে লকডাউন শুরু হলেও দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু থাকছে।
ফলে বেনাপোল বন্দরের পণ্য উঠানামা ও খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে।

বেনাপোল শুল্কভবনের চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন,ঈদের তিন দিনের ছুটি শেষে রোববার সকাল থেকেই পেট্রাপোল ও বেনাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন,ওপারে রোববার থেকে লকডাউন শুরু হওয়ায় আমরা শঙ্কায় ছিলাম সীমান্ত বানিজ্য বন্ধ থাকবে কী না? তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে দু’দেশের সীমান্ত বানিজ্য চালু থাকছে বলে ওপারের বন্দর ব্যবহারকারিরা জানিয়েছেন।

পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার থেকে ২সপ্তাহের জন্য লকডাউন দেওয়া হয়েছে। তবে এতে আমদানি রপ্তানিসহ সীমান্ত বাণিজ্যের উপর কোন প্রভাব পড়বে না।”

কার্তিক বলেন,রোববার সকাল ৬টা থেকে আগামী ১৫ দিন অর্থাৎ ৩০ মে পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে কার্যত লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্যই ফের এমন কড়া বিধি-নিষেধ জারি করেছে নবান্ন।শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শশাঙ্ক শেখর ভট্রাচার্য জানান, “পেট্রাপোল বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল পার্কিং ও বনগাঁও টার্মিনালে কয়েকশ পণ্য বোঝাই ট্রাক দাড়িয়ে আছে। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের শতভাগ রপ্তানী মুখি গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। যেগুলো বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।”

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন তরফদার বলেন, প্রতিদিন পেট্রাপোল বন্দর থেকে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোলে ঢোকে। আবার বেনাপোল দিয়ে দুই’শ থেকে তিনশ’ ট্রাক রপ্তানি পণ্যচালান যায় ভারতে।

“দু’দেশের মধ্যে লকডাউন থাকলেও বন্দরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণে সতর্ক রয়েছি। ভারতীয় ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে ও থার্মাল স্ক্যানারে চালক-সহকারিদের তাপমাত্রা যাচাইয়ের পরই তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে বন্দরে।পণ্য উঠানামাসহ আমদানি পণ্যচালান বন্দর থেকে দ্রুত ডেলিভারি দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব বলেন, উভয় দেশে লকডাউন বহাল থাকলেও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট খোলা রয়েছে।তবে বিধিনিষেধ থাকায় বিদেশিরা দেশে ঢুকতে পারবেন না। শুধুমাত্র ভারতে অবস্থানকারি বাংলাদেশিরাই কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে ফেরত আসতে পারবেন আর বাংলাদেশে আসা ভারতীয়রাই ফিরতে পারবেন।