পশ্চিমা বিশ্বে যার হাত ধরে হয়েছিল ইসলামী অভ্যুত্থান

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৬:অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৯

ইয়াসিন আবু বকর সম্পর্কে জানতে ত্রিনিদাদের কারো কাছে জানতে চান, উত্তরটা নির্ভর করছে কাকে প্রশ্ন করছেন তার ওপরে। কারো কাছে তিনি একজন সম্মানিত ধর্মীয় নেতা, কারো কাছে ক্লান্তিহীন সমাজকর্মী আর কেউ কেউ হয়তো বলবে তিনি একজন মাফিয়া গডফাদার।-খবর: বিবিসি বাংলা।

ত্রিনিদাদের রাজধানী পোর্ট অফ স্পেনে তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদে সাক্ষাতের অপেক্ষায় বসে থাকার সময় সংবাদদাতা কলিন ফ্রিম্যান বোঝার চেষ্টা করছিলেন যে, এই তিনটি বক্তব্যের কোনটি তার সঙ্গে মেলে।

শুক্রবার মধ্যাহ্নের খাবারের পর অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও অনেকেই তার সহায়তার জন্য এসেছেন।

তাদের অনেকেই ধর্মীয় কোন বিষয় বা বিয়ের মতো বিষয়ে তার নির্দেশনা পেতে এসেছেন। কখনো কখনো চুরি হয়ে যাওয়া গাড়ি ফেরত, ঋণের ব্যবস্থা করা বা ত্রিনিদাদের বস্তি এলাকার অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে বিরোধ মেটাতেও তার কাছে সহায়তা চাওয়া হয়।

তিনি বলছেন, ”সমস্যা সমাধানের একটি বিকল্প ব্যবস্থা।”

তিনি যেই হোন না কেন, আবু বকর কোন কাজ অর্ধেক করে করেন না। ১৯৬৯ সালে ত্রিনিদাদের প্রথম মুসলিম ধর্ম গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা। তখন একজন মিশরীয় ধর্মপ্রচারক এই দ্বীপে সফরে আসেন। খৃস্টান ধর্মের তুলনায় ইসলাম ধর্মকে আবু বকরের কাছে বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়, যে ধর্মকে তিনি দেখে আসছেন সেই সময় থেকে, যখন তার দেশ একটি দাস কলোনি হিসাবে ছিল।

তবে তিনি শুধুমাত্র বসে কোরান পড়ার মধ্যে সন্তুষ্ট ছিলেন না। ১৯৭০ সাল থেকে কর্নেল গাদ্দাফির একজন অতিথি হিসাবে তিনি কয়েক বছর লিবিয়ায় ছিলেন, যিনি সে সময় সারা বিশ্বে ইসলামিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দিতেন। এরপরে তিনি বাড়ি ফিরে এসে তা নিজের সংগঠন তৈরি করেন, যার নাম জামাত-আল-মুসলিমিন অথবা ইসলামের দল।

ত্রিনিদাদের পাড়া-মহল্লাগুলো থেকে মাদক বিক্রেতাদের সরিয়ে দিয়ে এই সংগঠনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যদিও এই সংগঠনের অনেক সদস্য ছিলেন সাজা খাটা সাবেক অপরাধী। যেসব এলাকায় পুলিশ যেতে ভয় পেতো, সেখানে তার এই ‘জেনারেলরা’ (তাদের এভাবেই তিনি ডাকতেন) সবার সম্মান অর্জন করে।

তবে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে এরকম একটি ক্ষমতার ব্যাপারকে পছন্দ করেনি ত্রিনিদাদের সরকার। বেশ কয়েকটি অভিযানের পর আবু বকর ভয় পেতে শুরু করেন যে, তারা হয়তো পুরো জামাতকেই ধ্বংস করে দিতে চাইছে।

তার প্রতিক্রিয়া ছিল অভিনব- সেটা ঘটার আগেই উল্টো সরকারি ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়া। ১৯৯০ সালে তার শতাধিক সশস্ত্র অনুসারী দেশের পার্লামেন্টে হামলা করে প্রধানমন্ত্রীকে জিম্মি করে এবং সরকার উৎখাত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়। পশ্চিমা কোন পরিবেশে এটাই একমাত্র ইসলামিক অভ্যুত্থান চেষ্টার ঘটনা।