পাঁচ ধাপে যাচাইয়ের পর মিলবে এমপিওর অর্থ

প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২০ | আপডেট: ১২:১১:অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২০

২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ ছিল নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি। এই সময়ে একাধিকবার কঠোর আন্দোলনে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষকরা। বেশির ভাগ সংসদ সদস্যও এমপিওভুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন জাতীয় সংসদে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছরের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন। এরপর গত নভেম্বরে আরো সাতটি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

করোনার মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাপ্রাপ্তির সব পথ উন্মুক্ত হলো। আগামী ২ মে শনিবার থেকেই তাঁরা এমপিও পেতে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

তবে বেতনের সরকারি অংশ (এমপিও) পেতে আবেদনের পর পাঁচ দফা যাচাইয়ের মুখে পড়বেন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এতে যেমন দীর্ঘ সময় লাগে, তেমনি হয়রানিরও আশঙ্কা রয়েছে। এমপিও কার্যক্রমে যুক্ত শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারির পর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি বেতনের অংশ পেতে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করে করোনাকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে বেতন পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

ব্যক্তিগত ইনডেক্স নম্বর চূড়ান্ত হওয়া সাপেক্ষে চলতি মাসের বেতন পরিশোধ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে বকেয়া বেতন প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার মাঠপ্রশাসন হয়ে অধিদপ্তর পর্যন্ত অন্তত পাঁচ ধাপে আবেদন যাচাই-বাছাই হয়। প্রথমে শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওর জন্য আবেদন দাখিল করেন নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছে। সেখান থেকে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়, জেলা শিক্ষা কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় হয়ে ঢাকায় শিক্ষা ভবনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে যায় আবেদনটি। প্রতিটি কার্যালয়ে একটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী কার্যালয়ে পাঠানো হয়। মাউশিতে এমপিও-সংশ্লিষ্ট কমিটির সভায় এসব আবেদন পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে সরকারের আদেশ জারির জন্য পাঠানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

মন্ত্রণালয় আদেশ জারির পর প্রতিমাসে বেতনের অর্থ নির্ধারিত ব্যাংকে পাঠায় অধিদপ্তর। এর আগে নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোড নম্বর ইস্যু করা হবে। এর পর শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ইনডেক্স নম্বর ইস্যু করা হবে। এসব নম্বরের ভিত্তিতে আবেদন করবেন নতুন এমপিওভুক্তরা। পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়।

নতুন গেজেটভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের পর সরকার গেজেট জারি করেছে এক কঠিন সময়ে, যখন আমরা করোনা আতঙ্কে ঘরবন্দি, আয়-রোজগারহীন। আবেদন নিষ্পত্তির যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া, এতে আমরা আদৌ এই ক্রান্তিলগ্নে আর্থিক সুবিধা পাব কিনা, শঙ্কায় আছি। প্রতিটি ধাপে হয়রানির ভয়ও আছে। সরকারের কাছে দাবি, শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আবেদন দ্রুত যাচাই শেষে আমাদের আর্থিক সুবিধা প্রদান করুক।

এ প্রসঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) রুহুল মমিন বলেন, সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করেছি। কয়েকটি ধাপ হয়ে আবেদন অধিদপ্তরে আসবে। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে শিক্ষকদের কষ্ট লাঘব করা যায়, সে উদ্যোগ নেব। যত দ্রুত সম্ভব তাদের বেতন পৌঁছানোর জন্য সরকার চেষ্টা করবে।

২০১৯ সালের জুলাই থেকে বকেয়াসহ বেতন পরিশোধ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী চলতি মাসের বেতন দিয়ে শুরু হয়। এর পর বকেয়া বেতনের জন্য আবেদন করতে হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ গত বছর পৃথক প্রজ্ঞাপনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরির ২ হাজার ৬১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে নিম্নমাধ্যমিক স্কুল ৪৩০টি, মাধ্যমিক স্কুল ৯৯১টি, উচ্চমাধ্যমিক (কলেজ) ৯২টি, উচ্চমাধ্যমিক (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ৬৮টি এবং ডিগ্রি কলেজ (স্নাতক-পাস) ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার প্রতিষ্ঠান ৬০টি, বিএম (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) ২৬৩টি এবং এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পর্যায়ে ১৬০টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দাখিল স্তরের মাদ্রাসা ৩২৪টি, আলিম ১১৯টি, ফাজিল ৩৪টি, কামিল ২২টি মাদ্রাসা।

এমপিও শর্ত রয়েছে, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাত প্রাপ্য হবেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়োগকালীন সময়ের বিধিবিধান, পরিপত্র, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুযায়ী কাম্য যোগ্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সে প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত করা হবে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সুবিধা প্রদান করা হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে সরকার। এর আগে ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।