পাইকগাছার পোদা-গয়সা নদীতে বাঁধ দেয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৫৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

শেখ দীন মাহমুদ, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার উন্মুক্ত স্রোতসিনী পোদা ও গয়সা বদ্ধ দেখিয়ে ইজারা প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। আর ইজারা নিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় সেখানকার ৬টি মৌজার ২টি স্লইচ গেটের পানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছে অবৈধ ইজারাদাররা।

ফলে অতি বর্ষণে তলিয়ে গেছে ঐ এলাকার হাজার হাজার বিঘার ফসলি জমির পাশাপাশি ভেসে গেছে লাখ লাখ টাকার মাছ। ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ এলাকাবাসী অবৈধ ইজারা বাতিলের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন।

খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে গেছে পোদা ও গয়সা নদী। যার আয়তন প্রায় ৭৪ একরের মত। বিস্তীর্ণ এলাকার সুষ্ঠু পানি সরবরাহে নদীর দু’প্রান্তে বসানো রয়েছে ২টি সরকারি স্লুইচ গেট। যা ইউনিয়নের ৬টি মৌজার হাজার হাজার বিঘা জমির পানি সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম।

তবে আকষ্মিক চলতি বছর উন্মুক্ত এ নদীকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে শুরু হয় ইজারা কার্যক্রম। ইজারা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নেট-পাটা ও বাঁধ দিয়ে শুরু করেছেন চিংড়ি চাষ। আর এতেই বন্ধ হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি সরবরাহের পথ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলা পরিষদ থেকে গত ২৪/০৪/২০১৯ তারিখে কয়রা উপজেলার গড়েরডাঙ্গা মিলনী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি প্রদীপ রায় উন্মুক্ত নদীটি রাতারাতি বদ্ধ দেখিয়ে ১৪২৬-১৪২৮ সাল পর্যন্ত ইজারা নিয়েছেন।

শুধু এখানেই শেষ নয়,সমিতির সভাপতি প্রদীপ রায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে লতা গ্রামের আব্দুল বারিক সরদারের ছেলে বাবুল সরদার ও কপিলমুনিস্থ নয়ন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আনারুল ইসলাম সহ ৪ জনের নামে সাব-লীজ প্রদান করেন। সাব-লীজ গ্রহিতারা সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী উন্মুক্ত নদীতে বাঁধ, নেট-পাটা দিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেছেন।

নদীর উপর নির্মাণ করছেন ৫/৬ টি দোকান ঘর। অবৈধভাবে নেট-পাটা, বাঁধ ও দোকানঘর নির্মাণ বন্ধের জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বার বার নিষেধ করার স্বত্ত্বেও তারা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখে। ফলে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে তিনি বিষয়টির দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য লতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে পাঠালে তাদের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে।

তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা সামান্য বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি বদ্ধতার জন্য ইজারাদারদের দায়ী করে ইজারা বাতিলপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেছে।