পাইকগাছায় প্রায় দেড়শো মন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৮:২৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা: শান্তি, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের অমর বাণী শোনাতে প্রতি বছর শারদ উৎসবে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসেন দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা দুর্গা। ভক্তদের ডাকে সাড়া দিয়ে একবছর পরে মা আসছেন। ধর্মের গ্লানি আর অধর্ম রোধ, সাধুদের রক্ষা, অসুরদের বধ আর ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবছর দুগর্তিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দেবীর মহালয়া ও আবাহন আর আগামী ৪ অক্টোবর শুক্রবার মহাদেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবল্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। পাইকগাছা উপজেলার প্রতিটি পূজামন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহুর্তের জোর প্রস্তুতি। মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির কারিগররা দিবারাত্রি কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে, বাকী রয়েছে রং তুলির কাজ। এ বছর উপজেলায় ১৪৯ টি মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় মোট ১শত ৪৯ টি দূর্গা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পৌর সদরে ৭টি, হরিঢালীতে ২০ টি, কপিলমুনিতে ১৯ টি, লতায় ১২ টি, দেলুটিতে ১৩ টি, সোলাদানায় ১৩ টি, লস্করে ১৬ টি, গদাইপুরে ৫ টি, রাড়–লীতে ২০ টি, চাঁদখালীতে ১২ টি এবং গড়ইখালীতে ১২ টি দূর্গা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামী ৪ অক্টোবর শুক্রবার মা দুর্গাদেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে ঢাক-ঢোল, কাঁশি, বাঁশি বাজবে প্রতিটি মন্ডপগুলিতে। সে কারনে প্রতিটি মন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তে প্রতিমা তৈরীর জোর প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে অনেক মন্ডপে দেবীর আকৃতি মুর্তিতে মাটির লেপনের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে।

প্রতিমা তৈরীর ভাস্কররা এখন দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরীর কাজে। আনন্দ ঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশে চলছে কারিগরি শিল্প নৈপুন্য। ভাস্কর কম থাকায় এক একজন ভাস্কর বেশ কয়েকটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ করে যাচ্ছেন। পাইকগাছা পৌরসভার কেন্দ্রীয় পূজা মন্দির বাতিখালী হরিতলা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রমথ সানা জানিয়েছেন, প্রতিমা তৈরীসহ পূজার সকল সরাঞ্জামাদী দ্রব্য মুল্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে উপজেলার জনপদে আনন্দের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বৃহৎ এ দুর্গা উৎসব পালনের। ইতোমধ্যে হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে নতুন জামা-কাপড়সহ ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনা-কাটা শুরু করে দিয়েছেন। কেউ আবার অগ্রিম শুভেচ্ছাসহ নিমন্ত্রণ দেয়ার কাজও শুরু করে দিচ্ছেন।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস জানিয়েছেন, এ বছর উপজেলায় ১শত ৪৯ টি মন্ডপে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা পরিষদের উপজেলা সভাপতি সমীরন সাধু জানিয়েছেন, যে সমস্ত মন্ডপগুলিতে লোক সমাগম বেশী হয় এবং বাজার কেন্দ্রীক সেগুলিকে অতিগুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত উপজেলার কোন মন্ডপে অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

থানার ওসি মোঃ এমদাদুল হক শেখ জানিয়েছেন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার এবং মন্ডপগুলোতে নজরদারীর বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে মন্ডপ পাহারা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।