পাইকগাছায় ভারী বর্ষণে কালভার্ট ভেঙ্গে যানবাহন চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৪৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

শেখ দীন মাহমুদ, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: মওসুমের সবচেয়ে ভারী বর্ষণে খুলনার পাইকগাছা পৌরসদরসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একাকার হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার মৎস্য ঘের। অতিরিক্ত পানিতে গ্রামাঞ্চালরের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভারী বর্ষনের ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ৩০টি কাঁচা,অর্ধ-কাঁচা ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। আমনের বীজতলা জলমগ্ন। এদিকে পানির তোড়ে উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের খুলনা-পাইকগাছা মেইন সড়কের বোয়ালিয়া মোড় হতে বোয়ালিয়া ব্রিজ রোড়ের রাস্তার একটি কালভার্ট পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। জনগুরুত্বপুর্ণ এই রাস্তা দিয়ে সকল প্রকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় জনগন।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যহত ছিল। এর মধ্যে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩ টার দিক থেকে শনিবার বেলা ১ টা পর্যন্ত ভারী বর্ষনে পৌরসদরসহ উপজেলার বিস্তির্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

পৌর সভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল গফফার মোড়ল জানান, ভারী বর্ষণে ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পৌরসদরের ৫নং ওয়ার্ড ও ৬নং ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাষন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, ভোর থেকে ভারী বর্ষণের মধ্যে পৌর এলাকার বিভিন্নস্থান ঘুরে দেখে পানি নিষ্কাষনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। রাতের মধ্যে পানি সরে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দেলুটির ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, ইউনিয়নের ১৫টি কাঁচা ঘর ভারী বর্ষনে ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া আমনের বীজতলাও জলমগ্ন হয়ে গেছে। গদাইপুর ইউনিয়নের অনেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে পানির তোড়ে খুলনা-পাইকগাছা মেইন সড়কের বোয়ালিয়া মোড় হতে বোয়ালিয়া ব্রিজ রোডের একটি কালভার্ট ভেঙ্গে গেছে। যে কারনে জনগুরুত্বপুর্ণ এই সড়ক দিয়ে সকল প্রকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার করতে না পারলে কম সময়ে উপজেলা সদর থেকে রাড়–লী ইউনিয়নে এবং পাশ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্নস্থানে যাতায়াতের চরম ভোগান্তি হবে জনসাধারনের। এলাকবাসী দ্রুত কালভার্টটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটন জানান, গদাইপুর ইউনিয়নের ৯টি কাঁচা ঘর পড়ে গেছে। এছাড়া আমনের বীজতলা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। গড়–ইখালীর প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু জানান, ইউনিয়নের অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আওয়ামী লীগনেতা জিএম ইকরামুল ইসলাম জানান, মৌখালী, ফতেপুর, ধামরাইল, গজালিয়া, ফেদুয়ারাবাদ, ঢেমশাখালী, কাটাবুনিয়া, কলমিবুনিয়া ও উড়াবুনিয়া সহ চাঁদখালী ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে। রাড়–লী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, তার ইউনিয়নের বাঁকা, কাটিপাড়া, শ্রীকণ্ঠপুর, রাড়–লী মালোপাড়াসহ ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম মুঠো ফোনে জানিয়েছেন, ভারী বর্ষনে বীজতলা জলমগ্ন হলেও রাতের মধ্যে পানি সরে গেলে বীজতলা জেগে যাবে, ফলে বীজতলার কোন ক্ষতি হবে না। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা না মিললেও ভারী বর্ষনের ফলে উঁচু জমিতে এখন আর ধান রোপন করতে কৃষকের কোন অসুবিধা হবেনা বলে কৃষিকর্মকর্তা জানিয়েছেন।