পাইকগাছায় লবণ পানির চিংড়ি চাষ বন্ধের সিদ্ধান্ত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৪:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

শেখ দীন মাহমুদ,পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি: পরিবেশ বিধ্বংসী চিংড়ি চাষ বন্ধে পাইকগাছাকে লবণমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন, খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব আক্তারুজ্জান বাবু। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা ও মাসিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছায় ৮০’র দশকে শুরু হয় লবণ পানির চিংড়ি চাষ। দীর্ঘদিন লবণ পানি উত্তোলন করে চিংড়ি চাষে মাটির উর্বরাশক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। একদিকে লবণাক্ততা অন্যদিকে উর্বরা শক্তি হ্রাসে উৎপাদন কমে গেছে ফসলের। অধিকাংশ এলাকার জীব-বৈচিত্রে পড়েছে বিরুপ প্রভাব। উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চিংড়ি ঘেরের পাশ দিয়ে বহমান রাস্তা-ঘাট,বাড়ি-ঘরসহ সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চাষাবাদ কমে যাওয়ায় কাজের অভাবে প্রতি বছর বেকার হচ্ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ। অনেকে পেশা বদল করে এলাকা ছাড়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত হচ্ছে চির সবুজ পাইকগাছা।

এদিকে গত কয়েক বছরে চিংড়ির উৎপাদন ভাল না হওয়ায় একদিকে যেমন লোকসানের মুখে মাছের পোনা, জমির হারি, ব্যাংক-এনজিও ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, অন্যদিকে লবনাক্ত অঞ্চলে ফসলও ফলছেনা আগের মত। এছাড়া দর্ঘি দিন যাবৎ সামুদ্রিক লবণ পানি উঠানোর ফলে বিলাঞ্চলের ছোট-বড় খালের নব্যতা হ্রাস পেয়ে মিশে গেছে ঘেরের সাথে।

এতে হাজার হাজার একর সরকারি জমি চলে গেছে বে-দখলে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে দিন দিন চিংড়ি বিরোধী আন্দোলন বেগবান হচ্ছে। লবণ অধ্যুষিত জনপদের অনেক এলাকায় চিংড়ির বিকল্প তরমুজের আবাদ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। চলতি মৌসুমে লবণ পানি মিষ্টি করেও শুরু হয়েছে উন্নত জাতের তরমুজের চাষ।

সভায় এমপি বলেন, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা ফেরাতে কৃষিবান্ধব সরকার কৃষক ও কৃষিতে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, অত্রাঞ্চলে প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুরোপুরি লবণ মুক্ত করে সৃষ্টি করতে হবে মিষ্টি পানির প্রবাহ। এতে মিষ্টি পানির মাছ চাষের পাশাপাশি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সাথে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের। সুপেয় পানির সংকটও হ্রাস পাবে। খাল-বিলে ফিরে আসবে দেশীয় প্রজাতির মাছ। নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও কৃষি ভিত্তিক পরিবারে বাড়বে হাঁস-মুরগী ও গবাদিপশু পালন। সব মিলিয়ে বাড়বে জীবন-যাত্রার মান।

উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক দু’টি সভায় চলতি মৌসুম থেকে পৌরসভা অভ্যন্তরে কোন প্রকার লবণ পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ ও ২০২২ সালের পর উপজেলাব্যাপী লবণ পানির উত্তোলন বন্ধের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মোঃ শাহরিয়ার হক, ওসি এজাজ শফী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার। সভায় ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।