পাকিস্তান কি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে পারছে?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১ | আপডেট: ৬:৩৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১
মন্দিরের দেয়াল ভেঙে পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ১০০ বছরের প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। আর আগে আরও একবার এই মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়েছিল পাকিস্তানে।

এর পরেই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কারাক জেলায় শ্রী পরম হংসজি মহারাজ সমাধি মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের জন্য কর্মকর্তাদের আদেশ দেয়। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এই হামলার ফলে দেশটির সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজের মধ্যে নতুন করে ভয়ভীতি তৈরি হয়েছে। একই সাথে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশেরও কম হিন্দু জনগোষ্ঠী। হিন্দুদের বিরুদ্ধে সমাজের ধারণাও প্রায় বদ্ধমূল। এর আগে ১৯৯৭ সালে এই শ্রী পরম হংসজি মহারাজ সমাধি মন্দিরে প্রথম হামলা চালানো হয়। এর ১৮ বছর পর পুনরায় ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দেয় মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর স্থানীয় হিন্দুরা মন্দিরটির পাশের আরেকটি বাড়ি ক্রয় করে সেটি মেরামতের কাজ শুরু করে। এই বাড়িটি তারা কিনেছিল হিন্দু পুণ্যার্থীদের বিশ্রামের জন্য। এর ফলে স্থানীয় জনগণ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তারা মনে করে যে মন্দিরটি আরও বড় করার কাজ চলছে।

পাকিস্তান কি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে পারছে?

তারই প্রতিবাদে ডিসেম্বরে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে আগত মুসলিমরা খুব দ্রুত উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং মন্দিরে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। মন্দিরের কাছে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয় ৩০শে ডিসেম্বর। স্থানীয় একজন ধর্মীয় নেতা এতে নেতৃত্ব দেন। তিনি জমিয়াতে উলেমায়ে ইসলাম নামের একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সাথেও জড়িত।

মন্দিরটির ওপর এর আগে ১৯৯৭ সালে যে আক্রমণ হয়েছিল তাতেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

হামলার পর পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যে কমিশন কাজ করে তাদের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, মন্দিরের ভেতরে মূল্যবান সব সামগ্রী ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে নকশা করা দরজা ও জানালা। এছাড়াও ভেঙে ফেলা হয়েছে শ্বেত পাথরে বাঁধাই করা হিন্দু সাধুর সমাধি।

হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১০৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে মৌলভী মোহাম্মদ শরীফও রয়েছেন। একই সাথে পুলিশের ৯২ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের ভেতরে হামলার সময় দায়িত্বরত দুজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

স্থানীয় পুলিশ ইন্সপেক্টর সানাউল্লাহ আব্বাসী জানান, সেসময় সেখানে ৯২ জন পুলিশ অফিসার কাজ করছিল। তারা ভীরুতার পরিচয় দিয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে।

যেখানে এই মন্দিরটি অবস্থিত সেটি একটি পার্বত্য মরু এলাকা। টেরি গ্রামে ১৯১৯ সালে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগ হওয়ার বহু বছর আগেই এটি নির্মিত হয়। যার নামে এই মন্দিরটির নামকরণ করা হয়েছে সেই হিন্দু সাধু শ্রী পরম হংসজি মহারাজের প্রচুর অনুসারী পাকিস্তান, ভারত ছাড়াও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তার সমাধিও এই মন্দিরে।