পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ধরে বেঈমানি করেছেন সিধু

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩৪:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮

পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকে জড়িয়ে ধরে বিপাকে পড়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান রাজনীতিবিদ নভজোত সিং সিধু।

ইমরান খানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত থেকে অতিথি ছিলেন সিধু। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বাসভবনে সেই অনুষ্ঠানে দেখা যায়, বাজওয়া নিজে এগিয়ে এসে সিধুকে জড়িয়ে ধরেন। অন্তত দুবার ‘হাগ’ করেন তারা। ওই সময় হাসিমুখে তাদের বেশ কিছু কথাবার্তা আদানপ্রদান হয়।

সেই ছবি সামনে আসার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। একের পর আক্রমণের শিকার হচ্ছেন সিধু। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, চিরশত্রু রাষ্ট্রের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গলাগলি করে কাজটা মোটেই ভালো করেননি তিনি।

হরিয়ানার বিজেপি সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অনিল ভিজ আরেক কাঠি সরস, পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ধরে সিধু নিজের দেশের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, সম্প্রতি মারা গেছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। তার মৃত্যুতে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে ভারতবাসী। এ অবস্থায় তার সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া উচিত হয়নি।

সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হওয়ার পর সিধুর দাবি, জেনারেল বাজওয়ার সঙ্গে শুধু শান্তি নিয়েই তার কথা হয়েছে। ভারতের একটি টিভি চ্যানেলকে তিনি বলেন, সে এগিয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে। এরপর বলে সেনাপ্রধান না, ক্রিকেটার হতে চেয়েছিল। তারপর জানায়, আমরা শান্তি চাই।

৫৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার কাম রাজনীতিবিদ জানান, পাকিস্তানের কর্তারপুরে গুরদোয়ারা দরবারা সাহিব আছে। সেখানে আগামী ২০১৯ সালে গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হবে। এ উপলক্ষে ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি করিডোর খোলা হবে। নিজে থেকেই সেই কথা দিয়েছেন বাজওয়া।

শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক দেবের সমাধি গুরদোয়ারাতেই। শিখদের কাছে তা অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। তবে ভিসার হয়রানির কারণে ভারত থেকে সেখানে যাওয়া মোটেই সহজ নয়। সিধু বলেন, পাকিস্তান সেনাপ্রধানের প্রতিশ্রুতি আমার কাছে একটা ‘ড্রিম কাম ট্রু’ – অর্থাৎ স্বপ্ন পূরণের মতো ব্যাপার।

সীমান্তের দুপারে পাঞ্জাবের বাজওয়া, সিধু, সান্ধু, চিমা পদবীর লোকেরা সবাই ‘জাঠ’ পরিবারভুক্ত। তারা পরস্পরের প্রতি আলাদা টান অনুভব করেন। তাও উল্লেখ করেন এ সাবেক ক্রিকেটার।

মারকাটারি ব্যাটসম্যান হিসেবে সুখ্যাতি ছিল সিধুর। তিনি ইমরান খানের বিপক্ষেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন। শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনিই ছিলেন ভারত থেকে যাওয়া একমাত্র অতিথি।

ইমরান খান তার যুগের ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব এবং প্রিয় বলিউড অভিনেতা আমির খানকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলে। তবে কেউই শেষ পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে যাননি।

সিধু ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে বিজেপির রাজনীতিতে যোগ দেন। সেই দলের হয়ে দুবার পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে এমপি হন। তবে গত বছর দলের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কংগ্রেস সরকারে একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সাবেক তুখোড় ক্রিকেটার।