পানির দামে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৯:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮
সংগৃহীত

স্বাভাবিক সময়ে যে ইলিশ আটশ থেকে একহাজার টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হয়, সেই ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে একশ থেকে দেড়শ টাকা কেজি দরে। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ শিকার।

ভরা প্রজনন মৌসুমে এসব মা ইলিশ ও জাটকা ইলিশ স্থানীয়ভাবে বিক্রি হচ্ছে পানির দামে। অভিযান চালিয়ে ও জেল-জরিমানা করার পরেও মাদারীপুরের পদ্মাপাড়ে ইলিশ কেনার জন্যে থাকে সকাল-সন্ধ্যা ক্রেতাদের ভিড়।

এতো সস্তায় ইলিশ পেয়ে স্থানীয় দরিদ্র ও নিন্ম আয়ের মানুষ ভিড় করছে মাদারীপুরের পদ্মা পাড়ে। আর সেখান তারা ব্যাগ বোঝাই করে ইলিশ নিয়ে ফিরছে বাড়িতে। পদ্মাপাড়ে গেলে সকাল-সন্ধা এ দৃশ্যই চোখে পড়ে।

জানা গেছে, ডিম ছাড়তে এই মৌসুমে মা ইলিশ ছুটে আসে পদ্মায়। ইলিশের এই ভরা প্রজনন মৌসুমে প্রতিবছরই সরকার মা ও জাটকা ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করে থাকে। দূর্গম চর এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অনেকটা গোপনেই জেলেরা ব্যস্ত রয়েছে ইলিশ শিকারে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ডিমভর্তি মা ইলিশ।

খুব ভোরে ইলিশ কিনতে আসা সালাম নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন। পদ্মার পাড়ে সস্তায় ইলিশ পাওয়া যায়, এ খবর শুনে তিনি মাছ কিনতে এসেছেন। তার দিনমজুর বাবার পক্ষে বছরের অন্য সময়ে বেশি দামে ইলিশ কেনা সম্ভব হয় না। তাই সস্তায় একটু বড় ইলিশ কিনতে কষ্ট করে এ দূর্গম চরে এসেছেন।

কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা ঠিক তার উল্টো। নিষিদ্ধ সময়েও থেমে নেই শিবচরের চারজানাত বন্দরখোলা ও কাঁঠালবাড়ি এলাকার পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার। দেদারছে ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। অনেক সময় আবার প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি করতে না পারায় খুবই অল্প দামে জেলেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। মাঝে মাঝে পুলিশ জেলেদের আটক করলেও পরে অর্থ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

চরাঞ্চলের পদ্মার পাড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খুচরা বিক্রি হয় ইলিশ মাছ। চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, অভিযানের শুরু থেকে প্রতিদিনই ভোর থেকে ব্যাগ হাতে পদ্মার পাড়ে নারী-পুরুষের ভিড় জমে। আসে ছোট ছেলে-মেয়েরাও। উদ্দেশ্য সস্তায় ইলিশ নিয়ে বাড়ি ফেরা।

জেলেদের জানান, পদ্মায় মাছ শিকারকারী জেলেদের বেশিরভাগই দরিদ্র। ঋণ করে জাল, নৌকা কিনে পদ্মায় মাছ ধরেন। ফলে মাসে মাসে ঋণ পরিশোধের কিস্তি দিতেই হয়। তাছাড়া সংসারের খরচ তো আর থেমে নেই। তাই মাছ শিকার বন্ধ করা আর হয়ে উঠে না। মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময় জেলেদের সরকারিভাবে যে সাহায্য পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য তারা পাননি।

শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আমরা প্রতিদিনই পদ্মা নদীর মাদারীপুর অংশে অভিযান পরিচালনা করছি। দিনের পুরোটা সময়ই আমরা পদ্মা নদীতে নজর রাখছি। তাছাড়া জেলেদের মাছ শিকার বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যারা মাছ কিনতে আসছেন তাদেরও সচেতন করার চেষ্টা করছি। তারপরও সাধারণ মানুষের ভিড় পদ্মার পাড়ে লেগেই থাকে।

শিবচর থানার ওসি জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যেই নদীতে মা ইলিশ ধরা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের চাহিদা মত আমরা পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করি। পুলিশবাহিনীর কোনো সদস্য জব্দকৃত মাছ নিজের কাছে নেয় না বলেও তিনি দাবি করেন।