পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ২:৫২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

চীনের একটি সামরিক গোয়েন্দা জাহাজ হাওয়াই উপকূলে চলমান মার্কিন মহড়ার বিষয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে বলে দাবি জানিয়েছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন।

মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র চার্লস ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন নৌযানগুলো চীনের একটি যুদ্ধজাহাজের সন্ধান পেয়েছে। ওই যুদ্ধজাহাজ থেকে মার্কিন মহড়ার ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হচ্ছে। মার্কিন নৌযানগুলো চীনের এই যুদ্ধজাহাজের ওপর নজর রেখেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হাওয়াই উপকূলে চলমান ওই সামরিক মহড়ায় চীনা নৌযানগুলোর অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আমেরিকা শেষ পর্যন্ত ওই সুযোগ দেয়নি। দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক তৎপরতার অভিযোগ তুলে আমেরিকা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা
রয়টার্স

পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ নিয়ে উত্তেজনা চলছে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। দু’দেশ একে অপরের পণ্যের ওপর একই পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে। চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ৪শ` কোটি ডলারের শুল্ক আরোপের জবাবে মার্কিন পণ্যেও একই পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে চীন।

এর আগে গত মাসে হোয়াইট হাউজ থেকে হাজারেরও বেশি চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরই একইভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় চীন। শুল্ক আরোপের ব্যাপারে যু্ক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, আমেরিকান প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্ব অবৈধভাবে চীনে স্থানান্তর ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বুলগেরিয়ার রাজধানী সুফিয়াতে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে চায়না প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেছেন, ব্যবসা নিয়ে যুদ্ধ করে কেউ লাভবান হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের ওপর যে শুল্ক আরোপ করছে তা মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। এতে কোনো পক্ষই লাভ হবে না। চায়না নিজে থেকে কোনো ব্যবসা যুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু অন্য কোন দেশ যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় এবং অবস্থা খারাপ করতে চায় সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে চায়না সিদ্ধান্ত নেবে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টির ব্যাপারে যা বললো অস্ট্রেলিয়া

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু চীনা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ পদক্ষেপে বিশ্ববাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

চীন-মার্কিন এই বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী স্টিভেন কিয়েবো।

সম্প্রতি সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কিয়েবো জানান, চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের শুল্কারোপ বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উভয় দেশের এ পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যযুদ্ধে রুপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অস্ট্রেলিয়া। এতে সারা বিশ্বেরই বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা অস্ট্রেলিয়ার।