পাশের হারে যশোর বোর্ডে সেরা খুলনা

প্রকাশিত: 8:40 PM, July 17, 2019 | আপডেট: 8:40:PM, July 17, 2019
ছবি: টিবিটি

তিতাস চক্রবর্তী, খুলনা প্রতিনিধি: এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের শীর্ষে অবস্থান করছে খুলনা মহানগরীর সরকারি এম এম সিটি কলেজ। কলেজটি থেকে এ বছর ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

গতবছর এই কলেজ থেকে ৪১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সিটি কলেজ থেকে এ বছর পরীক্ষা দিয়েছে ১ হাজার ৬০ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮১।

এদিকে পাশের হারে বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে খুলনা জেলা। খুলনার জেলার পাশের হার ৮৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। গতবছরও পাশের হারে খুলনা শীর্ষে এবং সিটি কলেজ জিপিএ-৫ এর শীর্ষে ছিলো।

যশোর বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর খুলনার ১০১টি কলেজ থেকে ২৪ হাজার ৭৬৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ২০ হাজার ২৩৯ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ৮৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। বোর্ডের পক্ষ থেকে শীর্ষ তালিকা প্রকাশ না করায় সেরা কলেজ বের করা যায়নি। তবে সিটি কলেজই সর্বোচ্চ সংখ্যক জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত দিনে বোর্ডে শীর্ষে অবস্থান করা কলেজগুলো এবারও ভালো ফলাফল করেছে। তবে পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার গতবারের তুলনায় বেড়েছে।

খুলনা নগরীর কলেজগুলোর মধ্যে চলতি বছর পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান করছে খুলনা পাবলিক কলেজ। এই কলেজ থেকে ৪৩১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৫৯ জন। গতবছর পাসের হার ৯৯ ছিল দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২১ জন।

রূপসা উপজেলার সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ কয়েক বছর ধরে ভালো ফল করছে। এ বছর কলেজটি থকে ৩৩৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯৬ দশমিক ৪১ হারে ৩২৩ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯৭ জন।

সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ গত বছরের চেয়ে ভালো করেছে। কলেজ থেকে ১ হাজার ২০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯৮ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৮ জন। গতবার পাসের হার ছিল ৭৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৫ জন।

খুলনার মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল (এমসিএসকে) গতবারের মতোই ভালো করেছে। কলেজ থেকে এবছর ৮৪ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৯ জন। গতবছর শতভাগ পাস এবং ৪৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

খুলনায় মেয়েদের কলেজের মধ্যে এবার ভালো করেছে সরকারি মহিলা (বয়রা) কলেজ খুলনা। কলেজ থেকে ৬৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬২২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৭ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে পাশের হার ও জিপিএ ৫ বেড়েছে কলেজটির। গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৫ জন। পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

গতবার মেয়েদের কলেজের মধ্যে সবেচেয়ে ভালো করেছিল পাইওনিয়ার সরকারি গার্লস কলেজ। এবারও তারা ভালো করেছে। সেখান থেকে ১ হাজার ১৫৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ১ হাজার ১০৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৮৬ জন।

খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল থেকে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর ১৫৫ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫১জন। সরকারি বিএল কলেজ থেকে এবছর ৭২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫১ জন পাস করেছে।

জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৩ জন। আযমখান সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ৫০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৭৪ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার ৯৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে পাশের হার ও জিপিএ ৫ বেড়েছে কলেজটির।

নতুন কলেজ হিসেবে এবার তুলনামূলক ভাল ফলাফল করেছে জেলা প্রশাসন পরিচালিত খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কলেজটি থেকে এবারই প্রথম ২৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন, এ-পেয়েছে ১৯ জন শিক্ষার্থী।

কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সঞ্জিব কুমার ঘোষ বলেন, অন্য সরকারি কলেজগুলোতে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। কিন্তু নতুন কলেজ হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষাকৃত খারাপ ছাত্ররাই এখানে ভর্তি হয়েছিলো। জিপিএ-৫ পাওয়া ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই এসএসসি ‘এ’ পেয়েছিল। এই ফলাফলে আমরা অনেক খুশি।