পাহারাদারের সহযোগীতায় প্রেমিককে জিম্মি করে প্রেমিকাকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | আপডেট: ১২:৫৮:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের শিল্প এলাকাখ্যাত অলিপুরে শ্রীমঙ্গল থেকে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে আসা ১৬ বছর বয়সী এক প্রেমিকা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মোবাইল ব্যবসায়ী ও পাহারাদারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

৯ সেপ্টেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর শিল্প এলাকার ফুরকান মিয়ার মার্কেটের কাছে এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ অলিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ অভিযানে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সানাবই গ্রামের আছকির মিয়ার ছেলে ধর্ষক সোহেল মিয়া (৩৫) তার সহযোগী একই উপজেলার মথুরানগর গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে পাহারাদার খিরাজ মিয়া (৪০)কে পুলিশ গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল শহরের সবুজবাগ এলাকার ১৬ বছরের এক কিশোরী একই স্থানের বাসিন্দা তার প্রেমিক পবিত্র দাশ(১৮) এর সাথে পালিয়ে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে আসে। অলিপুর শিল্প এলাকায় কর্মরত বন্ধু কাজল গোপের সাথে সাক্ষাৎ করে পবিত্র দাশ রাতের জন্য আশ্রয় চান। পরে কাজল গোপ তাদেরকে ভাড়াটিয়া বাসা শায়েস্তাগঞ্জের শৈলজুড়ায় নিয়ে যান। সেখানে বাড়িওয়ালা তাদের আশ্রয় দিতে মানা করেন। কাজল গোপ কোনো উপায় না পেয়ে আবার তাদেরকে অলিপুরে নিয়ে আসতে রওনা দেন।

পথে তাদেরকে পান অলিপুর বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া ও তার বন্ধু জাহাঙ্গীর মিয়া। সোহেল মোটরসাইকেল দাড় করিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন এ গভীর রাতে আপনারা কোথায় যাচ্ছেন। উত্তরে তারা বলেন অলিপুরে। এ সময় সোহেল বলে, পায়ে হেঁটে অনেক সময় লাগবে। তার চেয়ে আমার সাথে আসেন। এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে পবিত্র দাশ তার প্রেমিকাকে নিয়ে মোটরসাইকে উঠেন। আর জাহাঙ্গীর ও কাজল গোপ পায়ে হেঁটে আসতে থাকেন। সোহেল তাদের অলিপুর এনে বাস স্ট্যান্ডে না নিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। এ সময় পাহারাদার খিরাজ মিয়ার সহযোগীতায় প্রেমিক পবিত্র দাশকে জিম্মি করে তার প্রেমিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সোহেল।

এরপরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জাহাঙ্গীর ও কাজল গোপ। এনিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয় লোকেরা এগিয়ে আসে। এ খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রেমিক ও প্রেমিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় পুলিশের কাছে কিশোরী সোহেল কর্তৃক ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে।

থানার ওসি মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। বাকী কেউ জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।