পুলিশের নির্যাতনে ছাত্রের কিডনি নষ্ট, ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০ | আপডেট: ৯:০৬:অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

যশোরে পুলিশের নির্যাতনে ইমরান হোসেন (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের দুটি কিডনি নষ্ট হওয়ার ঘটনায় তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে সেখানকার সিভিল সার্জন ও ঘটনার তদন্তের বিষয়ে পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ২৮ জুনের মধ্যে যশোরের সিভিল সার্জনকে ভুক্তভোগীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার তথ্যসহ একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা তদন্তে পুলিশের গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কোনো রিপোর্ট দাখিল করা হয়ে থাকলে সেটাও ২৮ জুনের মধ্যে দাখিল করতে এসপিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সিভিল সার্জন ও এসপিকে সংশ্লিষ্ট কোর্টের রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে ওই রিপোর্ট কোর্টে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ওই দিন (২৮ জুন) মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ধার্য রাখা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আরেক রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, যশোরের পুলিশ সুপার, যশোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের মহাপরিদর্শক, যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং যশোরের সিভিল সার্জনকে রিটে বিবাদী করা হয়।

এর আগে গত ১৮ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ৮ জুন যশোর জেলার সদর উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের নেছার আলীর ছেলে ইমরান হোসেনকে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ অফিসার কর্তৃক নির্মম প্রহারের কারণে তার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে বলে পরদিন (৯ জুন) বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ইমরান বর্তমানে যশোরের কুইন্স হসপিটালে চিকিৎসাধীন বলে জানা যায়, যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং ইমরানের মৌলিক অধিকারের লংঘন।

রিট আবেদনে ইমরানের ওপর নির্মম প্রহারের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ইমরানের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং তার যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয়ভার বিবাদীদের বহন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।