পুলিশের পোশাকে এই ‘রানাদের’ শাস্তি হবে কী?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৩০:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

টিবিটি জাতীয়: পুলিশের দায়িত্ব সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানি। এবং তাদের কার্যকলাপ কি তাও জানার বাইরে নয়। সেসব তর্ক বিতর্ক ছেড়ে রাষ্ট্রের একজন মানুষ হিসেবে তাদের কাছে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয় একজন মানুষের শরীরে বিনা অপরাধে তারা কিভাবে হাত তোলেন?

রাষ্ট্র কি পুলিশকে অকারণে কাউকে বেতের আঘাত করার ক্ষমতা দিয়েছে? অকারণে গালিগালাজ এসবের অধিকার দিয়েছে? একজন পুলিশ যেমন সিগনালে দাঁড়িয়ে থেকে তার দায়িত্ব পালন করেন, একজন দিনমজুর বা শ্রমিকও ঠিক তাই করেন।

 

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশকে রাষ্ট্র বেতনসহ নানা সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে আর সেই অর্থ রাষ্ট্রকে দিচ্ছে দেশের জনগণ। সেই জনগণ ঐ দিনমজুর শ্রমিকও। তাহলে পুলিশ কর্তৃক কেন নির্যাতিত হবে একজন বাস ড্রাইভার, রিকশা চালকসহ দিনমজুর বা শ্রমিকেরা।

 

বাস চালকেরা, সিএনজি ড্রাইভারেরা, রিকশা চালকেরা যদি একদিন তার কাজ ছেড়ে দেন গন্তব্যে পৌঁছাতে দুর্ভোগের আর সীমা থাকবে না। দিন মজুরদের শরীরের চামড়া কি গণ্ডারের? যে তারা আঘাত লাগলে ব্যথা পায় না।

ড্রাইভার কুকুর বা গন্ডার নয়, সে একজন মানুষ। তার আর তার পরিবারের খাবার জোগাড়ে প্রাণ হাতে নিয়ে রাস্তায় নামেন। কিছু থেকে কিছু হলে তাদের মারতে হবে কেন? অপরাধ করলে তার শাস্তি হোক সঠিক রাস্তায়।

 

কিন্তু তাদের অপমান কথায় কথায় শরীরে আঘাত কেন করবেন একজন পুলিশ। ওর শরীরেও ব্যথা আছে। আমরা বাসে ১ ঘণ্টাতে বিরক্ত হই, পুলিশ রাষ্ট্র থেকে কাড়ি কাড়ি সুবিধা নিচ্ছেন দায়িত্ব পালন করতে তাও তাদের দুর্নামের শেষ নেই।

 

২ টাকা ঘুষ নেবার মতো অপরাধের অভিযোগ আর সত্যতা সবই আছে তাদের বিরুদ্ধে। আর বাস, সিএনজি, রিকশা চালকদের সারাদিন কাটে গাড়িতে সেইতো কিছু অর্থ উপার্জনের জন্য। নিজেরটা নিজে আয় করে খায়। কেন একজন পুলিশের কাছে তাদেরকে লাঞ্ছিত বা নির্যাতিত হতে হবে?

যাহোক মূল কথায় আসি, বাসের ড্রাইভাররা অনেক খারাপ হয়, এটা আমাদের কমন গালি, কিন্তু ওরা যদি আমাদের গন্তব্যে নিয়ে না যায় আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।

 

মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) ৩.৩০ আমি অফিস শেষে কারওয়ান বাজার থেকে বাসায় ফিরছিলাম স্বাধীন বাসে করে।  ড্রাইভারও ভালো মতো মোহাম্মাদপুর সলিমুল্লাহ রোড অর্থাৎ চার রাস্তা মোড় পর্যন্ত আসে, তখন একজন দায়িত্বরত পুলিশ (ব্যাচে তার নাম রানা) ড্রাইভারকে হাত দিয়ে থামতে বলেন, সামনে একটা লেগুনা থাকায় ড্রাইভার প্রথমে না দেখলেও দেখার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায়।

 

কিন্তু পুলিশটা এসেই ড্রাইভারকে বেত দিয়ে অনেক গুলা বাড়ি দিলো। কথা বলছে, আর শপাশপ পেটাচ্ছেন। আমি ড্রাইভারের পাশেই বসে ছিলাম বেতের বাড়ির আঘাত আমার হাতেও লাগতে গেছে, যদিও লাগেনি। শুধু ওই বেতের বাতাসটাই হাত ছুঁয়ে গেছে।

পরে দেখছি ড্রাইভার কান্না করে বলছে কাগজ নেন কিন্ত কথা বার্তা ছাড়াই গায়ে হাত তোলেন কেন? আমিতো আপনাকে দেখেই থামালাম। কিন্তু পুলিশটা গালিতো দিয়েই যাচ্ছেন সঙ্গে বেতটাও চলছে।

 

পুলিশের বেতের বাড়ি আর থামে না। এবার বাসে থাকা মানুষ হিসেবে নিজেকে খুব জড় পদার্থ থেকে মানুষ বানিয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলাম আপনি ওনাকে মারছেন কেন?

পুলিশ সদস্য এবার আমাকেও ঝাড়ি, মহিলা হেনো তেনো বলে, তখনও তার বেতের আঘাত থামছে না। আমি আবারও যথেষ্ট বিনয়ীভাবে প্রশ্ন করলাম আপনি কেন ওনাকে মারছেন, কোনো কারণ ছাড়া। এবার উনি আরো ঝাড়ি।

যাই হোক উনি এবার গাড়ির কাগজ রেখে গাড়িকে চলে যেতে বললেন। উনি প্রথমে মেয়ে মানুষ হবার কারণে খুব একটা মান্য করেনি। এবার পুলিশের উল্টা কথা বার্তা শুনে আমি বাসে থাকা বেশ কয়েকজনকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশকে ঘিরে ধরি।

এরপর ওনাকে বলি কাগজ দিবেন এবং ড্রাইভারকে সরি বলবেন। এই কথাতে পুলিশ সদস্য রানা অপেশাদারিত্বের সঙ্গে চেচামেচি করেন। এবং আঙুল তুলে তুলে কথা বলে।

বাসের একটা ভাইয়া পুলিশের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কথাকাটিকাটি করেন যুক্তি দেখিয়ে। ততক্ষণে একজন ভদ্রলোক এসে ব্যাপারটা মিটমাটের চেষ্টা করেন (মে বি পুলিশ সদস্যের কোনো কর্মকর্তা)।

বাসের সেই ভাইয়াসহ সকলের যুক্তি আর প্রশ্নে অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্য রানা নিজেই চারপাশ ভিডিও করতে শুরু করে যে তাকে কিভাবে মানুষ ঘিরে আছে।

যেহেতু ওনাকে হয়তো কিছু ‘অর্থ ঘুষ’ নেওয়া থেকে বঞ্চিত করলাম! তাই সে হুমকিও দিলো তিনি দেখে নেবেন আমাকে। এটা খুবই অপেশাদারের মতো আচরণ। যাই হোক যে ভদ্রলোক (মে বি পুলিশ সদস্যের কোনো কর্মকর্তা) মিটমাটের চেষ্টা করেন তার কথামত পরে বাসের কাগজ পুলিশ সদস্য রানা দিতে বাধ্য হয়েছে।

হুট করে সব হওয়াতে ছবি তোলার সময় পাইনি। শুধু পুলিশ সদস্য রানার একটা ছবি তুলে রেখেছি যাতে তার মতো একজন লোককে নিজে চিনে রাখতে পারি আর জণগণকে চেনাতে পারি।

আমাদের কারো খেয়ে দেয়ে দায় পড়িনি বাসে বসে থেকে রাস্তার পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা করবো। ঝামেলাটা তখনই বাধে যখন চোখের সামনে অনেক বেশি অন্যায় হয়।

তাই সবার প্রতি একটা অনুরোধ, কারো সাথে অন্যায় কিছু হতে দেখলে সবাই মিলে একসাথে দাঁড়াবেন। দেখবেন ১০০ টাকা ঘুষ না পাওয়ার ‘অভিমানে’ একজন পুলিশ অন্য দিন মজুরের শরীরে আঘাত করতে পারবে না।